Showing posts with label অর্থনীতি. Show all posts
Showing posts with label অর্থনীতি. Show all posts

Sunday, March 22, 2020

 গ্যাস-বিদ্যুতের বিল এখন দিতে হবে না

গ্যাস-বিদ্যুতের বিল এখন দিতে হবে না

মাসিক গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল দিতে ব্যাংকে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ফেব্রুয়ারি থেকে মে—এই চার মাসের গ্যাসের বিল আগামী জুনে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত তিন মাসের বিদ্যুতের বিল মে মাসে জমা দিতে বলা হয়েছে। এ জন্য কোনো বিলম্ব মাশুল বা সার চার্জ দিতে হবে না গ্রাহককে। আজ রোববার মন্ত্রণালয় থেকে এ–সংক্রান্ত একটি চিঠি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কাছে পাঠানো হয়।
জ্বালানি বিভাগের উপসচিব আকরামুজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, আবাসিক গ্যাস বিল নির্ধারিত সময় জমা দিতে বিপুল পরিমাণ গ্রাহক ব্যাংকে একসঙ্গে গিয়ে জমা হয়। এভাবে অনেক মানুষ একসঙ্গে ব্যাংকে গিয়ে বিল দিতে গেলে করোনাভাইরাস বা ‘কোভিড–১৯’ সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার ‘গ্যাস বিপণন নিয়মাবলি (গৃহস্থালি) ২০১৪’ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবাসিক গ্রাহকেরা কোনো রকম বিলম্ব মাশুল বা সার চার্জ ছাড়াই ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের গ্যাস বিল আগামী জুন মাসের সুবিধাজনক সময় জমা দিতে পারবেন।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিটি দেন উপসচিব আইরিন পারভিন। চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যুতের আবাসিক গ্রাহকেরা বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে থাকেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে গ্রাহকদের পক্ষে বিল পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসের বিল কোনো রকম বিলম্ব মাশুল ছাড়া মে মাসে জমা নেওয়ার জন্য বিইআরসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়।

Saturday, March 21, 2020

পণ্যের দাম বেশি রাখলে ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ করুন

পণ্যের দাম বেশি রাখলে ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ করুন

 নিজস্ব প্রতিবেদক
ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিতে চালু হয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ভোক্তা অভিযোগ তথা 'ভোক্তা বাতায়ন' শীর্ষক হটলাইন সেবা। ১৬১২১ হটলাইন নম্বরে সপ্তাহের সাতদিন ২৪ ঘণ্টা এ সেবা চালু থাকবে। যেখানে কোনো ভোক্তা পণ্য বা সেবা ক্রয় করে প্রতারিত হলে সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ করতে পারবেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
রোববার (১৫ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস-২০২০ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও হট লাইন উদ্বোধন করে এসব কথা বলেন তিনি।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার-সুরক্ষিত ভোক্তা-অধিকার’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আজ বিশ্বভোক্তা অধিকার দিবস পালিত হচ্ছে।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভোক্তাদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বাজারব্যবস্থা হতে হবে ভোক্তাবান্ধব ও নিরাপদ। বাজার মানেই ক্রেতা-বিক্রেতার সহাবস্থান, ব্যবসা মানেই ক্রেতা-বিক্রেতার মিথষ্ক্রিয়া। ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছা, চেষ্টা, আইনানুগ ব্যবসা পরিচালনাই গড়ে তুলতে পারে একটি সুস্থ এবং সহযোগীতামূলক উৎপাদক ব্যবসায়ী ভোক্তা সম্পর্ক।’
তিনি বলেন, ‘ন্যায্য মূল্য ভেজালহীন পণ্য বা সেবা পাওয়া ভোক্তাদের অধিকার। এ বিষয়ে সচেতন করতে পারলে জরিমানার প্রশ্নটা কমে যাবে, মানুষ আর অন্যায় কাজ করবে না।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবুল কুমার সাহা।

বাণিজ্যসচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম রহমান, ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান তপন কান্তি ঘোষ, প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Friday, March 20, 2020

বাজারে হুমড়ি খেয়েছে ক্রেতারা, দাম বাড়ছে নিত্য পণ্যের

বাজারে হুমড়ি খেয়েছে ক্রেতারা, দাম বাড়ছে নিত্য পণ্যের

  • হারুন আনসারী, ফরিদপুর
  •  
  • ২০ মার্চ ২০২০
  • বাজারে হুমড়ি খেয়েছে ক্রেতারা, দাম বাড়ছে নিত্য পণ্যের 
    ফরিদপুরে এখনো পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্বব্যাপী প্রাদূর্ভাবের পর দেশব্যাপীও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর ঝুঁকি বাড়তে থাকায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গুজবেও আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।
    এরই মাঝে আতঙ্কিত মানুষ ঘরে নিত্য পণ্যের মজুদ গরে তুলতে বাজারে কেনাকাটার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। এই সুযোগে দ্রব্যমূল্যের দামও বেড়ে যাচ্ছে হু’হু করে। আজ শুক্রবার ফরিদপুরের জেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার বাজারেও মানুষদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য প্রয়োজনের অধিক কিনতে দেখা গেছে। সংকটকালীন সময়ের জন্য মজুদ গড়ে তুলতেই তাদের এ প্রবণতা। গত বুধবার সন্ধা হতে এ প্রবণতা শুরু হয়। আর বৃহস্পতিবার সন্ধায় তা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দেখে বাজারের এক ব্যবসায়ী মন্তব্য করেন, যেনো চাঁদ রাত (ঈদের আগের রাত) পরেছে শহরে।
    Ad by Valueimpression
    ফরিদপুরের চকবাজার ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন জনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা হতে বাজারে নিত্য পণ্যের দোকানগুলোতে ঈদের আগের রাতের মতো ভিড় জমে যায়। মানুষ চাল,ডাল, আটা, চিনি, সাবান সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র কেনার জন্য লাইনে দাড়িয়ে যায়। মাছ, মাংশের দামও বেড়ে গেছে।
    একই অবস্থা দেখা যায় শহরের হাজি শরিয়তুল্লাহ বাজার, টেপাখোলা বাজার সহ বিভিন্ন বাজারেও। কাঁচামালের দামও এক লাফে দ্বীগুন হয়ে যায়। এ প্রেক্ষিতে মাত্র এক রাতের ব্যবধানে শুক্রবার সকালে ৩০ টাকার পেঁয়াজের দাম বেড়ে দাড়ায় ৬৫ টাকা কেজি দরে।
    বাজারে চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি গড়ে ৫ টাকা দরে। বস্তা প্রতি ৩শ’ টাকা বেড়ে গেছে এ দাম। শুধু জেলা শহর নয়, উপজেলা পর্যায়েও একই দশা। নিত্যপণ্যের দামের পাশাপাশি বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক পণ্যের দামও বেড়ে যাচ্ছে। মোবাইল ও কম্পিউটারের বিভিন্ন পার্টস সারাতে এখন এসব পণ্য কিনতে হচ্ছে দ্বীগুনেরও বেশি দামে।
    এ প্রেক্ষিতে ফরিদপুরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। তা তা অপ্রতুল। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সোহেল মেখ ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সৈয়দ জাকির হোসেন শহরে অভিযান পরিচালনা করে মেসার্স রামকৃষ্ণ ভান্ডারের বিমল সাহজাকে ১৫ হাজার টাকা বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের হাফিজুর রহমানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। চালের দা বেশি নেয়ায় তাদের এ জরিমানা করা হয়। নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক বজলুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তবে ভ্রাম্যমান আদালতের এ অভিযানের পরেও দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক হয়নি বলে ক্রেতারা জানিয়েছেন। তবে ব্যবসায়ীদের মতামত হচ্ছে, ক্রেতাদের এমন ভিড় দেখে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যের দাম কিছুটা বেশি রাখছেন।

    ফরিদপুরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলছেন, মানুষ আতঙ্কিত হয়ে এসব পণ্যের মজুদ গড়ছে। আই এই সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ নেবে এটিই স্বাভাবিক। আর পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।
    বাজারে এসব নিত্যপণ্যের দামের পাশাপাশি মাস্ক, গ্লোভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজারেরও দাম বেড়েছে। এসব পণ্যের সংকট বিরাজ করায় ক্রেতারা উচ্চ মূল্যেই সেসব কিনছে।
    ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সকলকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক রয়েছে। বাজারে কোন পণ্যের ঘাটতি হয়নি। কেউ অতি উৎসাহী হয়ে পরিস্থিতি খারাপ করবেন না। বাজার পরিদর্শনে কাউকে অনিয়ম বা অন্যায়ের সাথে জড়িত থাকতে দেখলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
    এদিকে, করোনা ভাইরাস ও উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার বেলা ১২ টার দিকে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জানা গেছে, শুক্রবার পর্যন্ত জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৫শতাধিক বিদেশ ফেরতকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
    এছাড়া নগরকান্দা উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় চরযশোরদী ইউনিয়নের শ্রীবরদি গ্রামের আজিজুল ইসলাম (৪০) কে ১০ হাজার টাকা ও ফুলসূতি ইউনিয়নের হিয়াবলদী গ্রামের মজিবর রহমানে (৩৭) কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

    Monday, March 16, 2020

    পাঁচ মাস পর জয়পুরহাট হিলি বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু

    পাঁচ মাস পর জয়পুরহাট হিলি বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু

     প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০২০  
    দীর্ঘ পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে জয়পুরহাট হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দেশে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। রোববার বিকেল ৩টা ৪০ মিঃ ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক বন্দরের পানামা পোর্টে প্রবেশ করে। ফলে বন্দরে কর্মচাঞ্চল্যতা ফিরে আসে।
    গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর অভ্যন্তরীণ সংকট দেখিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজের রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। একারণে ভারত থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে পড়লে দেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে প্রতি কেজি ২৬০ টাকার উপরেও বেচা-কেনা হয়। এ অবস্থায় দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার দ্রুত মিয়ানমার, পাকিস্তান সহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করে।
    গত ২ মার্চ জয়পুরহাট হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়িরা পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি চেয়ে ঢাকার খামাড়বাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রে আবেদন করেন। গতকাল অনুমতি পাওয়ার রবিবার বিকেল থেকে পুনরায় শুরু হয় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি।

    Sunday, March 15, 2020

    পুঁজিবাজারে বেড়েছে সূচক-লেনদেন 

    সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (১১ মার্চ) পুঁজিবাজারে সূচকের উত্থান হয়েছে। এদিন দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেনও বেড়েছে। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
    বুধবার প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৩১ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১৯ ও ডিএসই-৩০ সূচক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৯৭৯ ও ১৪১৩ পয়েন্টে।
    ডিএসইতে এই দিন টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৪২২ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। যা আগের দিন থেকে ৯৪ কোটি টাকা বেশি। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩২৮ কোটি টাকার।
    ডিএসইতে ৩৫৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৭০টির শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে, কমেছে ৪০টির এবং ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
    ডিএসইতে বুধবার টাকার পরিমাণে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো-মুন্নু সিরামিক, স্কয়ার ফার্মা, বিকন ফার্মা, খুলনা পাওয়ার, লাফার্জহোলসিম, অরিয়ন ইনফিউশন, অরিয়ন ফার্মা, ব্যাংক এশিয়া, কোহিনুর ও গ্রামীণফোন।
    অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ২২২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৮৯৪ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ১৮০টির, কমেছে ৩৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টির দর। সিএসইতে ১৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিনের চেয়ে ৫ কোটি টাকা বেশি। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১২ কোটি টাকার।

    Tuesday, September 17, 2019

    রাখাইনে ৬ লাখ রোহিঙ্গা গণহত্যার চরম ঝুঁকিতে : জাতিসংঘ

    রাখাইনে ৬ লাখ রোহিঙ্গা গণহত্যার চরম ঝুঁকিতে : জাতিসংঘ

    রাখাইনে ৬ লাখ রোহিঙ্গা গণহত্যার চরম ঝুঁকিতে : জাতিসংঘ

    মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে এখনো ছয় লাখের মতো রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যার চরম ঝুঁকিতে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির তদন্তকারী একটি মিশন গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদনে তাদের এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
    জাতিসংঘের তদন্তকারী দল বলছে, বর্তমানে মিয়ানমারের যে পরিস্থিতি, তাতে বিতাড়িত হওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনের বিষয়টি অসম্ভবই হয়ে আছে। জাতিসংঘের ওই ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন যে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তৈরি করেছে তা মঙ্গলবার জেনেভায় উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।
    রোহিঙ্গা নিধন অভিযান নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল গত বছর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে ২০১৭ সালে রাখাইনে পরিচালিত দেশটির সেনাবাহিনীর নিধন অভিযানকে গণহত্যা বলে উল্লেখ করে সেনাপ্রধানসহ দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের বিচারের আহ্বান জানায়।
    জাতিসংঘের ওই তিন সদস্যের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের চেয়ারম্যান মারজুকি দারুশম্যান গত বছরের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন। যেখানে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়।
    মিশনের চেয়ারম্যান মারজুকি দারুশম্যান বলেন, রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর একই রকম অপরাধী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিধন অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। তারপর প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৭ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা।
    মারজুকি দারুশম্যান বলেন, ‘আমরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা ও গণহত্যা চালানোর মতো সব অভিপ্রায়ের প্রমাণ পেয়েছি। যুগ যুগ ধরে তারা (মিয়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনী) পাশবিক এই অপরাধ করে এলেও তাদের কোনো বিচার হচ্ছে না।’
    মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী হিসেবে স্থানীয় উগ্রপন্থী রাখাইন বৌদ্ধরা রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, নির্যাতন, তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশে এখন মোট রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি।

    Tuesday, April 23, 2019

    পোশাক খাতের মজুরি বাড়েনি, বাস্তবে ২৬ শতাংশ কমেছে : টিআইবি

    পোশাক খাতের মজুরি বাড়েনি, বাস্তবে ২৬ শতাংশ কমেছে : টিআইবি

    তৈরি পোশাক খাতের মজুরি নিয়ে মালিক পক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়েছে। নতুন কাঠামোতে মজুরি বাড়েনি, উল্টো ২৬ শতাংশ কমেছে বলে দাবি করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
    মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীতে টিআইবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। ‘তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন : অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
    সংবাদ সম্মেলনের টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইন অনুযায়ী প্রতিবছর পাঁচ শতাংশ হরে মজুরি বাড়ানোর নিয়ম রয়েছে। এ হিসেবে মজুরি বাড়েনি, বাস্তবিক অর্থে সার্বিকভাবে ২৬ শতাংশ কমানো হয়েছে।
    এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে টিআইবি জানায়, ২০১৩ সালের ঘোষিত মজুরি অনুযায়ী প্রথম গ্রেডে ছিল ৮ হাজার ৫০০ টাকা। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ঘোষিত প্রথম গ্রেডে নতুন মজুরি করা হয়েছে ১০ হাজার ৯৩৮ টাকা। কিন্তু ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টসহ ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে মজুরি হওয়ার কথা ছিল ১৩ হাজার ৩৪৩ টাকা। সেই হিসেবে মজুরি ২ হাজার ৪০৫ টাকা বা ২৮ শতাংশ কমেছে। এভাবে নতুন কাঠামোতে মজুরি সার্বিকভাবে ২৬ শতাংশ কমেছে।

    TIB-2
    গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সংস্থার সহকারী প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনা ও মো. মোস্তফা কামাল।
    ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পোশাক খাতে অনেক অগ্রগতি হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়ে গেছে। শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়টি পর্যাপ্ত দৃষ্টি পাচ্ছে না। নূন্যতম মজুরি বৃদ্ধির মধ্যে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়ে গেছে। বাস্তবে মজুরি কমে গেছে বলে ধারণা করা হতো। আমাদের প্রতিবেদনেও তা ওঠে এসেছে। আগের তুলনায় ২৬ শতাংশ মজুরি কমে গেছে। সেটি তো বাড়েইনি বরং যারা আন্দোলন করেছে তাদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
    ট্রেড ইউনিয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রে আইনি ও প্রায়োগিক দুর্বলতা রয়েছে। মাত্র ৩ শতাংশ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে। যার অধিকাংশই মালিকদের দ্বারা প্রভাবিত।
    টিআইবি জানায়, পোশাক খাতে অধিকাংশ সাব কন্ট্রাক্টর নির্ভর কারখানায় নূন্যতম মজুরি দেয়া হয় না। এছাড়া নতুন মজুরি কাঠামোতে মালিকপক্ষের মূল মজুরির বৃদ্ধি ২৩ শতাংশ দাবি করা হলেও প্রকৃত হিসাবে ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে তা প্রায় ২৬ শতাংশ কম। মজুরি বৈষম্য নিয়ে আন্দোলন করায় ৫ হাজার শ্রমিককে আসামি করে ৩৫টি মামলা করা হয়েছে। ১৬৮টি কারখনায় ১০ হাজার শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

    Wednesday, April 17, 2019

    নড়বড়ে ব্যাংকিং খাত, ছাড়ে রক্ষার চেষ্টা

    নড়বড়ে ব্যাংকিং খাত, ছাড়ে রক্ষার চেষ্টা

    অনিয়ম, অব্যস্থাপনা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, পর্ষদের স্বেচ্ছাচারিতা ও ঋণ কেলেঙ্কারিতে নাজুক অবস্থায় পড়েছে দেশের ব্যাংকিং খাত। ফলে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। মূলধনও খেয়ে ফেলেছে অনেক ব্যাংক। উচ্চ সুদহার আর তারল্য সঙ্কটে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি তলানিতে। ফলে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গলার কাটা এখন ব্যাংক খাত। চলমান এ সমস্যা উত্তরণে নানা ফাঁক ফোঁকর খুঁজছে সরকার।
    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। নতুন সরকারের নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। মন্ত্রী হওয়ার পরই ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করতে কঠোর হুঁশিয়ারির পাশাপাশি সংস্কারের ঘোষণা দেন তিনি।

    বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখোমুখি। উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ব্যাংক খাতই এখন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এ খাতের সমস্যা দূর করতে ব্যাংক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
    সর্বশেষ ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সদর দফতরে বসন্তকালীন সভার প্রথম দিন তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। এ দুর্বলতা কাটাতে আমরা আইএমএফের সহযোগিতা চেয়েছি। তারা আমাদের ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
    নতুন অর্থমন্ত্রী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পরিচালক ও ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে খেলাপির বিষয়ে শর্ত জুড়ে দেন। তিনি বলেন, বৈঠকে বসার আগেই আমার শর্ত ছিল একটা। কোনো কিছু আলাপ করার আগে আমার এক দফা। আজকের পর থেকে খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়তে পারবে না। এর পর তৎপরতা শুরু করে বেসরকরি ব্যাংকের চেয়ারম্যানরা। কীভাবে খেলাপি ঋণ কমানো যায়, তার কৌশল নির্ণয়ে ব্যাংক ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন পরিচালকরা। এদিকে সরকারের চাপে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও। নেয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। এছাড়া বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি কাঠামোগত সংস্কারের নানা উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে।
    ব্যাংকিং খাত-সংক্রান্ত কমিটির সুপারিশে ঋণ খেলাপিদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে সরকার। অর্থমন্ত্রী বলছেন, ঋণখেলাপিদের ঋণ পরিশোধের অর্থাৎ ঋণখেলাপি থেকে বেরিয়ে আসার একটি সুযোগ করে দিচ্ছি। তবে এ সুযোগ অবশ্যই ‘ভালো’ ঋণখেলাপিদের জন্য।
    তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে দুই ধরনের ঋণগ্রহীতা আছে; ভালো এবং অসাধু ঋণগ্রহীতা। ভালো ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধের জন্য আমরা বিশেষ সুবিধা দিচ্ছি।
    নানা সমালোচনার মধ্যেও ঋণখেলাপিদের সুযোগ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা আসতে যাচ্ছে পুনর্গঠিত ঋণসহ যে কোনো ঋণ পুনঃতফসিল এবং খেলাপি ঋণ হিসাবায়নে। এছাড়া ডাউন পেমেন্টের বর্তমান হারও কমানো হবে।
    বর্তমানে কোনো ঋণ তিন মাস মেয়াদোত্তীর্ণ হলে সাব-স্ট্যান্ডার্ড, ৬ মাস মেয়াদোত্তীর্ণ হলে সন্দেহজনক এবং ৯ মাস মেয়াদোত্তীর্ণ হলে মন্দ (খেলাপি) হিসেবে শ্রেণীকরণ করে। এসব ঋণ মান নির্ধারণে প্রতি পর্যায়ে সময় বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থাৎ তিন মাসের পরিবর্তে ৬ মাস মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ সাব-স্ট্যান্ডার্ড, ১২ মাস মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ সন্দেহজনক এবং দেড় বছর মেয়াদোত্তীর্ণ হলে তা মন্দমান (খেলাপি) হিসেবে শ্রেণীকরণ করবে। শ্রেণীকরণের এ প্রস্তাব করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি। এটি কার্যকর হলে খেলাপিরা বাড়তি সুবিধা পাবে। ব্যাংকগুলো নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখতে বাড়তি সময় পাবে।
    অর্থমন্ত্রীর উদ্যোগ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংস্কারের মধ্যে শুভঙ্করের ফাঁকি দেখছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সরকার ব্যাংক খাতের প্রয়োজনীয় সংস্কার না করে বিভিন্ন ফাঁক ফোঁকর খুঁজছে। এসব সংস্কার করে কাগজে-কলমে ব্যাংক খাত ভালো করতে পারলেও বাস্তবে নেতিবাচক ছাড়া এর ইতিবাচক কোনো ফল আসবে না।
    এ বিষয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ব্যাংকিং খাত সংস্কারে সরকারের পক্ষ থেকে অনেক কথাবার্তা বলা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ দেখছি না।
    base
    তিনি বলেন, খেলাপিদের জন্য সরকার যে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, তা করলে ব্যাংকিং খাতে আরও বেশি সমস্যা সৃষ্টি হবে। মোট ঋণের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১২ বছরে বকেয়া টাকা পরিশোধের সুযোগ দেয়া হবে। তাদের ঋণের সুদ হবে ৯ শতাংশ। এটিই যদি হয় তাহলে যারা ঋণ খেলাপি নয়, নিয়মিত গ্রাহক তাদের ক্ষেত্রে অবিচার করা হবে। তারা ১০ থেকে ১২ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করছে। পরবর্তীতে এ ঋণ আর পরিশোধ করবে না। কারণ তারা বলবে, খেলাপি হলে কম সুদে ঋণ পাওয়া যাবে।
    এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খারাপ ভালো ব্যাংক যুক্ত করার কথা বলা। কিন্তু কোন প্রক্রিয়ায় করা হবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। অর্থাৎ সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কারের বিষয়ে অনেক কথা বলা হচ্ছে। এটির ফল আসলে কী হবে তা এখন দেখার বিষয়।
    বর্তমান ব্যাংক খাতে সুশৃঙ্খলা ফেরাতে কী করা উচিত, জানতে চাইলে প্রবীণ এ অর্থনীতিবিদ বলেন, ব্যাংক খাতের জরুরি কয়েকটি কাজ করতে হবে। এর মধ্যে প্রথমত সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। একই পরিবারের পরিচালকদের পর্ষদে দীর্ঘ মেয়াদি রেখে এটি নিশ্চিত করা সম্ভব না। দ্বিতীয়ত, ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ করতে হবে। এছাড়া আইনি যেসব দুর্বলতা আছে তা দূর করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে বলে তিনি জানান।
    সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমাতে অবলোপনের (রাইট অফ) নীতিমালা পরিবর্তন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে মামলা ছাড়াই ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ অবলোপন করতে পারবে ব্যাংকগুলো। এতোদিন মামলা ছাড়া সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ঋণ অবলোপন করার সুযোগ ছিল। ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম নির্ধারণ করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।
    এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, কিছু ব্যাংক কর্মকর্তার যোগসাজশ এবং প্রভাবশালী খেলাপির কারণে পুরো অর্থনীতি ঝুঁকিতে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নজরদারি বাড়িয়েছে। এতে আগামীতে খেলাপি কমে আসছে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
    নানা সমা‌লোচনার পরও রাজ‌নৈ‌তিক বি‌বেচনায় আরও তিন‌টি ব্যাংক অনু‌মোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নতুন সরকার। এর ম‌ধ্যে কার্যক্রম শুরু কর‌তে দু’‌টি ব্যাংককে লাইসেন্সের জন্য প্রাথমিক সম্মতিপত্র (এলওআই বা লেটার অব ইনটেন্ট) দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক দু‌টি হ‌লো- বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং সিটিজেন ব্যাংক। এ ছাড়া এলওআই পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পিপলস ব্যাংক।
    খেলাপি ঋণ
    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের শেষে ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ১১ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বর ২০১৭ শেষে ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা বা ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৯ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা।
    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ডিসেম্বের শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণ খেলাপির পরিমাণ ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে ছিল ৬২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা এবং ২০১৫ সালে খেলাপি ঋণ ছিল ৫১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা।
    মূলধন ঘাটতি
    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে বলছে, গত ডিসেম্বর শেষে ১০টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এসব ব্যাংকের ঘাটতি দেখা দিয়েছে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা। তিন মাস আগে ৯টি ব্যাংকের ঘাটতি ছিল ১৯ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। নতুন করে মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংক। মূলধন ঘাটতির তালিকায় বেশিরভাগই রয়েছে সরকারি ব্যাংক। অন্যদিকে, ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে আলোচিত জনতা ব্যাংকের ঘাটতি বেড়ে পাঁচ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা হয়েছে। মূলধন ঘাটতি রেখে কোনো ব্যাংক তার শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে পারে না।
    রিজার্ভ চুরি
    ব্যাংক খাতের আলোচিত একটি ঘটনা রিজার্ভ চুরি। ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ঘটে রিজার্ভ চুরির ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০১ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার (৮০০ কোটি টাকা) চুরি হয়।
    বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি, ‘হ্যাক’ করে এ অর্থ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পরে এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে পদত্যাগ করতে হয়। অব্যাহতি দেয়া হয় দুই ডেপুটি গভর্নরকে। ওএসডি করা হয় অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে।
    এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে সরকারের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। তিন বছর পর রিজার্ভ চুরির অর্থ ফিরিয়ে আনতে ও ক্ষতিপূরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে শেষ পর্যন্ত মামলা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ মামলা নিষ্পত্তিতে তিন বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।অর্থনীতি