Showing posts with label জাতীয়. Show all posts
Showing posts with label জাতীয়. Show all posts

Friday, April 3, 2020

চট্টগ্রামে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত

চট্টগ্রামে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত

করোনাভাইরাস
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি--আমেনা খাতুন 
চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়া এলাকার এক বৃদ্ধ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষার এই ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে।
আক্রান্ত রোগীকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। রাতেই তাঁর বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে
চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি প্রথম আলোকে বলেন, জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষার পর লোকটি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হই আমরা। তাঁকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করেছি। তিনি কীভাবে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তা আমরা বের করার চেষ্টা করছি।
অসুস্থ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার আক্রান্ত রোগী চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর নমুনা পরীক্ষা হওয়ার পর করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, ওই রোগীর বয়স ৬৭ বছর। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় বিদেশফেরত কারওর সংস্পর্শে তিনি এসেছেন কিনা চিকিৎসকেরা জানতে চেয়েছিলেন। রোগী ‘না’ সূচক জবাব দিয়েছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ রোগীর বাড়ি লকডাউন করে দিয়েছে। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন থেকে লোকটি আক্রান্ত হতে পারেন। কিন্তু চট্টগ্রামের লোকজন এখনো ভয়াবহ ভাইরাসটি সম্পর্কে গুরুত্ব দিচ্ছে না। বাইরে অবাধ বিচরণ করছে। মসজিদেও ভিড় কমছে না। এটাই চিন্তার বিষয়। সবাই সতর্ক না হলে বিপদ থেকে রক্ষা পাবে কীভাবে?

Wednesday, March 25, 2020

বগুড়ায় মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে আইসোলেশন কেন্দ্র ঘোষণা

বগুড়ায় মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে আইসোলেশন কেন্দ্র ঘোষণা

করোনায় অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য #বগুড়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট #মোহাম্মদআলী_হাসপাতাল প্রস্তুত #Share

বগুড়ায় মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে আইসোলেশন কেন্দ্র ঘোষণা👍👍👍


বগুড়া জেলা সদরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে আইসোলেশন কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে।
ওই হাসপাতালে ভর্তি সকল রোগী মঙ্গলবার সকালে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. গওসুল আজীম চৌধুরী জানান, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রস্তুত হওয়ার জন্য ২৫০ শয্যার বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল খালি করা হয়েছে। সকালে সব রোগী বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আইসোলেশন কেন্দ্র হিসেবে হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী প্রস্তুত করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শফিক আমিন কাজল বলেন, আইসোলেশনের জন্য হাসপাতাল খালি করতে বলা হয়েছে। তাই খালি করেছি। এই হাসপাতালের চিকিৎসক, সেবিকা ও অন্যান্য কর্মচারী মিলে মোট জনবল ৫৬৫। আমরা মোট ১০০টা পিপিই পেয়েছি।

হাসপাতাল ছেড়ে আসা গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা এক রোগী আবদুস সামাদ বলেন, ‘সোমবার রাতেই আমাদের হাসপাতাল ছাড়ার জন্য প্রস্তুতি নেবার কথা বলা হয়েছিল। সকালে হাসপাতাল ছেড়ে শজিমেক হাসপাতালে এসেছি।’
করোনা মোকাবেলায় বেতনের অর্ধেক দান করবেন ক্রিকেটাররা

করোনা মোকাবেলায় বেতনের অর্ধেক দান করবেন ক্রিকেটাররা

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। এরমধ্যেই এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে মারা গেছেন মোট ৫ জন। দেশের এ দুঃসময়ে সহযোগীতার হাত বাড়ালেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ১৭ ক্রিকেটারদের সঙ্গে কিছু দিন আগে শেষ হওয়া জিম্বাবুয়ে সিরিজে সুযোগ পাওয়া আরও ১০ ক্রিকেটারসহ মোট ২৭ জন ক্রিকেটার নিজেদের এক মাসের বেতনের অর্ধেক দান করছেন সরকারী তহবিলে।একাধিক ক্রিকেটার এই উদ্যোগের কথা নিশ্চিত করেন। বিসিবির চুক্তিভুক্ত ও গত তিন মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা বিভিন্ন গ্রেডের ২৭ ক্রিকেটার মিলে জড়ো করেছেন ২৬ লাখ টাকা। সংকটকালে এই অর্থ তারা পোঁছে দিতে চান করোনাভাইরাস প্রতিরোধের কাজে। ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নিজেদের এমন উদ্যোগের কথা নিশ্চিত করেন মুশফিকুর রহিমও। সাবেক এই অধিনায়ক বাকি পেশাজীবিদেরও এগিয়ে আসার আহবান জানান, ‘করোনার বিরুদ্ধে জিততে হলে আমাদের এই উদ্যোগ হয়তো যথেষ্ট নয়। কিন্তু যাদের সামর্থ্য আছে সবাই যদি এক সঙ্গে এগিয়ে আসেন’
বিসিবির চুক্তিতে থাকা ১৭ ক্রিকেটার হলেন: তামিম ইকবাল, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুমিনুল হক, নাঈম হাসান, আবু জায়েদ রাহি, ইবাদত হোসেন, মাহমুদউল্লাহ, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, আফিফ হোসেন,মোহাম্মদ নাঈম শেখ। 
এছাড়া জিম্বাবুয়ে সিরিজের স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটাররা হলেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, ইয়াসির আলি চৌধুরী, মেহেদী হাসান, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, শফিউল ইসলাম, আল-আমিন হোসেন, হাসান মাহমুদ, রুবেল হোসেন, নাসুম আহমেদ ও সাইফ হাসান। 
গ্রেড অনুযায়ী একেক ক্রিকেটারের বেতন একেকরকম। যেমন ওয়ানডে দলের নতুন অধিনায়ক তামিম ইকবাল আছেন উভয় বলের চুক্তিতে। তার মাসিক বেতন ৬ লাখ টাকা। তিনি তাই দেবেন ৩ লাখ টাকা। এছাড়া লাল, সাদা উভয় বলের চুক্তিতে থাকা মুশফিকুর রহিম বেশি ম্যাচ খেলার ভিত্তিতে পান সর্বোচ্চ ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতন। তিনি দেবেন ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। 
ওয়ানডে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়া মাশরাফি বিন মর্তুজা বিসিবির নতুন কেন্দ্রিয় চুক্তিতে নেই। কিন্তু সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সিরিজে তিনি ওয়ানডে খেলায় গ্রেড অনুযায়ী তিনি এই মাসে পাবেন ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা বেতন। করোনাভাইরাসের তহবিলে তাই মাশরাফির কাছ থেকে যাবে ২ লাখ ১২ হাজার টাকার মতন। 
এভাবে বেশ মোটা একটা অঙ্কের তহবিল করতে যাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। তবে সরকারের ঠিক কোন কর্তৃপক্ষের কাছে এই টাকা তারা পৌঁছে দেবেন তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। 
শ্রমিকেরা আক্রান্ত হলে ভয়াবহ বিপর্যয়

শ্রমিকেরা আক্রান্ত হলে ভয়াবহ বিপর্যয়

যখন প্রায় সারা দুনিয়াতে লকডাউন আর বাইরের যোগাযোগ বন্ধ, তাহলে সব কারখানা খোলা রাখতে হবে কেন? আমরা কি অপেক্ষা করব পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে এর সংক্রমণ ঘটা পর্যন্ত? আর তখন কীভাবে সেটি সামাল দেওয়া হবে? এত দিন পর্যন্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান বলছিল যে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঘটেনি। কিন্তু এখন তো পরিষ্কার, কোনো প্রবাসীর সংস্পর্শে না গিয়েই মারা গেছেন অন্তত একজন। ‘প্রবাসী তত্ত্ব’ এখন অনেকটাই দূরে সরে যাচ্ছে। কোনোভাবে করোনা কোনো শ্রমিকের শরীরে ছড়িয়ে পড়লে সেটি দিনেই হাজার শ্রমিকে পৌঁছে যাবে। বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকেরা এসেছেন বাংলাদেশের প্রতিটা গ্রাম থেকে। সেখানেও ছড়িয়ে যাবে মুহূর্তের মধ্যে।
করোনার ছোবলে বিশ্বের প্রায় সবকিছু অচল হয়ে পড়লেও চালু আছে বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত। সে সময়ে নতুন অর্ডার আসা ও ডেলিভারির সুযোগ সীমিত। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ১ হাজার ৮৯টি কারখানার ৮৭ কোটি ৩২ লাখ ৩৬ হাজার ৬২২টি অর্ডার বাতিল হয়েছে। যার আর্থিক পরিমাণ ১ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এসব কারখানার মোট শ্রমিকের সংখ্যা ১২ লাখ। সব ধরনের নিরাপত্তার দিক থেকেই সবচেয়ে নাজুক এই শ্রমিকদের জীবন বাঁচানোর প্রশ্নে দেশের সব গার্মেন্টস কারখানা বন্ধের দাবি তুলেছেন শ্রমিকনেতারাসহ অনেকেই।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে যদি অনেক দেরি করে ফেলি, তাহলে বরং দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের এই পোশাকখাতই অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। করোনা-উত্তর নতুন বাস্তবতায় আমরা কি চাইব একটা অসুস্থ, ধুঁকতে থাকা শ্রমিকশ্রেণি, নাকি সুস্থ-সবল শ্রমিক, যাঁরা শুধু দেশের চাহিদা নয়, করোনার ধাক্কায় বিপর্যস্ত বাকি দুনিয়ার জন্য পোশাকের জোগান দেবেন?
করোনা সংক্রমণের মাত্র কয়েক সপ্তাহের এই বিপদের দিনে যদি আমরা মুনাফার লোভ সংবরণ করতে পারছি না। প্রার্থীদের টাকা নষ্ট হবে বলে এই সংকটময় সময়ে হয়েছে নির্বাচন। এখন এই মুনাফার কথা ভেবে পোশাকশ্রমিকদের ছুটি দিচ্ছি না। দীর্ঘ মেয়াদে লাভের কথাও যদি ভাবি তাহলেও এই মুহূর্তে অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার বিকল্প নেই। এ সময় শ্রমিকদের বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা এবং তা সরাসরি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
এই কঠিন সময়ে এই খাতে বিপর্যয় ঠেকাতে সরকারের প্রণোদনা প্রদানও আবশ্যক। তবে শ্রমিকদের কাছে সরাসরি বেতন-ভাতা পৌঁছে দেওয়ার বন্দোবস্ত আর এই প্রণোদনা প্রদান সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নেওয়া বাঞ্ছনীয়। এ সময় ‘কারখানা খুললে দেব, পরে দেব’-জাতীয় কথা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।
করোনা-উত্তর বিশ্ব নতুন অর্থনৈতিক চিন্তা দাবি করে। সেই সঙ্গে বিশ্বব্যবস্থায় ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসন্ন বলেই মনে হয়। গত শতকের ৭০ ও ৮০-র দশকের নয়া উদারবাদী অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ এবং তার পরবর্তী বিশ্বায়নের প্রত্যক্ষ ফলস্বরূপ ইউরোপের বহু দেশ তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং খাত অনেকাংশে ধ্বংস করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও তা অনেকাংশে সত্য। চীনসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ব্যাপক মাত্রায় ম্যানুফ্যাকচারিং স্থানান্তরিত হয়েছে। বাংলাদেশে শিল্পায়নের জোরদার কোনো ভিত্তি না দাঁড়ালেও আমরা ওই ব্যবস্থার অর্থনৈতিক সুবিধা পেয়েছি মূলত তৈরি পোশাক খাত এবং প্রবাসী শ্রমিকদের অবদানের কারণে। মোটাদাগে দেখা যাচ্ছে যে করোনা প্রতিরোধে চীন নেতৃত্ব দিয়ে এখন করোনা-উত্তর বিশ্বের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে চীন। আক্রান্ত বিভিন্ন দেশে সহায়তা পাঠানোর মাধ্যমে নৈতিক-রাজনৈতিক দিক থেকেও দেশটি এগিয়ে যাচ্ছে। যে সময়ে পশ্চিমা বিশ্ব লড়াই করবে করোনার ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য, তখন চীন ও আরও কয়েকটি রাষ্ট্র সারা দুনিয়াকেই জোগান দেবে আবশ্যকীয় নানা দ্রব্য। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থানটা ঠিক কোথায় হবে?
আমরা আমাদের প্রবাসীদের অপমান করছি। পোশাকশ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছি না। বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নতুন কোনো আশা কি তৈরি হচ্ছে আমাদের জন্য? হলে সেটা কোন পথে? নিশ্চয়ই স্বল্পমেয়াদি লাভের আশায় দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে নয়।
করোনা সংক্রমণে অল্প বা মধ্যবয়সীদের মধ্যে মৃত্যুহার কম বলে যাঁরা ভাবছেন, পোশাকশ্রমিকদের ওপর করোনার থাবা তীব্র হবে না, তাঁরা গুরুতর ভ্রান্তির মধ্যে বসবাস করছেন। এই ভাবনা অত্যন্ত অমানবিকও বটে। একে তো যেকোনো বয়সী মানুষ এই সংক্রমণে মারা যেতে পারে, অন্যদিকে, পোশাকশ্রমিকদের পরিবারে শিশু থেকে বৃদ্ধ নানা বয়সী মানুষ আছেন। কর্মক্ষেত্রে একজন পোশাকশ্রমিকের মধ্যে সংক্রমণ হওয়ার মানে তার গোটা পরিবারকেও বিপন্ন করা। করোনা সংকট-উত্তর বিনিয়োগের পরিকল্পনা কি আমাদের আছে? সেখানে এ দেশের পোশাকশিল্পের চেহারাটা কী হবে? পোশাকশ্রমিকের অবস্থানই-বা সেখানে কী হবে?
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই কঠিন সময়ে আমাদের দরকার জাতীয় ঐক্য। পোশাকশ্রমিক ও অন্য শ্রমজীবী মানুষদের বাদ দিয়ে সেই ঐক্য হতে পারে না।
জোবাইদা নাসরীন: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
zobaidanasreen@gmail.com

Sunday, March 22, 2020

 গ্যাস-বিদ্যুতের বিল এখন দিতে হবে না

গ্যাস-বিদ্যুতের বিল এখন দিতে হবে না

মাসিক গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল দিতে ব্যাংকে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ফেব্রুয়ারি থেকে মে—এই চার মাসের গ্যাসের বিল আগামী জুনে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত তিন মাসের বিদ্যুতের বিল মে মাসে জমা দিতে বলা হয়েছে। এ জন্য কোনো বিলম্ব মাশুল বা সার চার্জ দিতে হবে না গ্রাহককে। আজ রোববার মন্ত্রণালয় থেকে এ–সংক্রান্ত একটি চিঠি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কাছে পাঠানো হয়।
জ্বালানি বিভাগের উপসচিব আকরামুজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, আবাসিক গ্যাস বিল নির্ধারিত সময় জমা দিতে বিপুল পরিমাণ গ্রাহক ব্যাংকে একসঙ্গে গিয়ে জমা হয়। এভাবে অনেক মানুষ একসঙ্গে ব্যাংকে গিয়ে বিল দিতে গেলে করোনাভাইরাস বা ‘কোভিড–১৯’ সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার ‘গ্যাস বিপণন নিয়মাবলি (গৃহস্থালি) ২০১৪’ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবাসিক গ্রাহকেরা কোনো রকম বিলম্ব মাশুল বা সার চার্জ ছাড়াই ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের গ্যাস বিল আগামী জুন মাসের সুবিধাজনক সময় জমা দিতে পারবেন।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিটি দেন উপসচিব আইরিন পারভিন। চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যুতের আবাসিক গ্রাহকেরা বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে থাকেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে গ্রাহকদের পক্ষে বিল পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসের বিল কোনো রকম বিলম্ব মাশুল ছাড়া মে মাসে জমা নেওয়ার জন্য বিইআরসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়।

Saturday, March 21, 2020

বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারির পরামর্শ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারির পরামর্শ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারির পরামর্শ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার 
আশকোনা হজ ক্যাম্পে ইতালি থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিরা। ছবি: ফাইল, ফোকাস বাংলা
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা জারির পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। একইসঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশের কোথাও কোথাও লকডাউন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার নিজ বাসভবনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এসব তথ্য জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।
মেয়র বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়েছে, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি আগামীতে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। এটাকে প্রতিরোধের জন্য এখনই সর্বশক্তি দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিছু কিছু এলাকা আংশিক লকডাউন করা হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও পুরোপুরি লকডাউন করা হয়েছে। অনেক দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। লকডাউন এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করায় তারা ভালো ফল পেয়েছে। সে দেশগুলোতে নতুন আক্রান্তের সংখ্হয়েছে। কোথাও কোথাও আক্রান্তের সংখ্যা কমে এসেছে। আবার কোথাও কোথাও শূন্যতে চলে এসেছে।
তিনি বলেন, ঢাকা একটি জনবহুল শহর। বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এখানে সম্পূর্ণ লকডাউন করা কঠিন। তারপরও তারা (ডব্লিউএইচও) ঢাকা কিংবা অন্য কোনও এলাকা আংশিক লকডাউন অথবা ইমার্জেন্সি (জরুরি অবস্থা) ঘোষণা করা যায় কিনা সে বিষয়ে আমাদের পরামর্শ দিয়েছে। সেটি আমরা সরকারের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেব।
ঢাকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আবাসিক প্রতিনিধি ড. বর্ধন জং রানা বলেন, আমরা তো কোনও সিদ্ধান্ত দিতে পারি না। এটা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিষয়। আমরা কেউ ঝুঁকির বাইরে নেই।
বৈঠকে ছিলেন, ঢাকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আবাসিক প্রতিনিধি ড. বর্ধন জং রানা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি প্রধান ডা. ইআই সাক্কা হাম্মান, ইউএস সিডিসি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মিহাল এ ফ্রাদমান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক প্রফেসর ডা. এবিএম আব্দুল্লাহসহ আরো অনেকে।
এদিকে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২৪ জন হয়েছে। মৃত্যুও বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুইজনে।
পণ্যের দাম বেশি রাখলে ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ করুন

পণ্যের দাম বেশি রাখলে ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ করুন

 নিজস্ব প্রতিবেদক
ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিতে চালু হয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ভোক্তা অভিযোগ তথা 'ভোক্তা বাতায়ন' শীর্ষক হটলাইন সেবা। ১৬১২১ হটলাইন নম্বরে সপ্তাহের সাতদিন ২৪ ঘণ্টা এ সেবা চালু থাকবে। যেখানে কোনো ভোক্তা পণ্য বা সেবা ক্রয় করে প্রতারিত হলে সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ করতে পারবেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
রোববার (১৫ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস-২০২০ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও হট লাইন উদ্বোধন করে এসব কথা বলেন তিনি।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার-সুরক্ষিত ভোক্তা-অধিকার’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আজ বিশ্বভোক্তা অধিকার দিবস পালিত হচ্ছে।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভোক্তাদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বাজারব্যবস্থা হতে হবে ভোক্তাবান্ধব ও নিরাপদ। বাজার মানেই ক্রেতা-বিক্রেতার সহাবস্থান, ব্যবসা মানেই ক্রেতা-বিক্রেতার মিথষ্ক্রিয়া। ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছা, চেষ্টা, আইনানুগ ব্যবসা পরিচালনাই গড়ে তুলতে পারে একটি সুস্থ এবং সহযোগীতামূলক উৎপাদক ব্যবসায়ী ভোক্তা সম্পর্ক।’
তিনি বলেন, ‘ন্যায্য মূল্য ভেজালহীন পণ্য বা সেবা পাওয়া ভোক্তাদের অধিকার। এ বিষয়ে সচেতন করতে পারলে জরিমানার প্রশ্নটা কমে যাবে, মানুষ আর অন্যায় কাজ করবে না।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবুল কুমার সাহা।

বাণিজ্যসচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম রহমান, ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান তপন কান্তি ঘোষ, প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Friday, March 20, 2020

বাজারে হুমড়ি খেয়েছে ক্রেতারা, দাম বাড়ছে নিত্য পণ্যের

বাজারে হুমড়ি খেয়েছে ক্রেতারা, দাম বাড়ছে নিত্য পণ্যের

  • হারুন আনসারী, ফরিদপুর
  •  
  • ২০ মার্চ ২০২০
  • বাজারে হুমড়ি খেয়েছে ক্রেতারা, দাম বাড়ছে নিত্য পণ্যের 
    ফরিদপুরে এখনো পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্বব্যাপী প্রাদূর্ভাবের পর দেশব্যাপীও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর ঝুঁকি বাড়তে থাকায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গুজবেও আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।
    এরই মাঝে আতঙ্কিত মানুষ ঘরে নিত্য পণ্যের মজুদ গরে তুলতে বাজারে কেনাকাটার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। এই সুযোগে দ্রব্যমূল্যের দামও বেড়ে যাচ্ছে হু’হু করে। আজ শুক্রবার ফরিদপুরের জেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার বাজারেও মানুষদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য প্রয়োজনের অধিক কিনতে দেখা গেছে। সংকটকালীন সময়ের জন্য মজুদ গড়ে তুলতেই তাদের এ প্রবণতা। গত বুধবার সন্ধা হতে এ প্রবণতা শুরু হয়। আর বৃহস্পতিবার সন্ধায় তা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দেখে বাজারের এক ব্যবসায়ী মন্তব্য করেন, যেনো চাঁদ রাত (ঈদের আগের রাত) পরেছে শহরে।
    Ad by Valueimpression
    ফরিদপুরের চকবাজার ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন জনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা হতে বাজারে নিত্য পণ্যের দোকানগুলোতে ঈদের আগের রাতের মতো ভিড় জমে যায়। মানুষ চাল,ডাল, আটা, চিনি, সাবান সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র কেনার জন্য লাইনে দাড়িয়ে যায়। মাছ, মাংশের দামও বেড়ে গেছে।
    একই অবস্থা দেখা যায় শহরের হাজি শরিয়তুল্লাহ বাজার, টেপাখোলা বাজার সহ বিভিন্ন বাজারেও। কাঁচামালের দামও এক লাফে দ্বীগুন হয়ে যায়। এ প্রেক্ষিতে মাত্র এক রাতের ব্যবধানে শুক্রবার সকালে ৩০ টাকার পেঁয়াজের দাম বেড়ে দাড়ায় ৬৫ টাকা কেজি দরে।
    বাজারে চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি গড়ে ৫ টাকা দরে। বস্তা প্রতি ৩শ’ টাকা বেড়ে গেছে এ দাম। শুধু জেলা শহর নয়, উপজেলা পর্যায়েও একই দশা। নিত্যপণ্যের দামের পাশাপাশি বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক পণ্যের দামও বেড়ে যাচ্ছে। মোবাইল ও কম্পিউটারের বিভিন্ন পার্টস সারাতে এখন এসব পণ্য কিনতে হচ্ছে দ্বীগুনেরও বেশি দামে।
    এ প্রেক্ষিতে ফরিদপুরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। তা তা অপ্রতুল। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সোহেল মেখ ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সৈয়দ জাকির হোসেন শহরে অভিযান পরিচালনা করে মেসার্স রামকৃষ্ণ ভান্ডারের বিমল সাহজাকে ১৫ হাজার টাকা বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের হাফিজুর রহমানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। চালের দা বেশি নেয়ায় তাদের এ জরিমানা করা হয়। নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক বজলুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তবে ভ্রাম্যমান আদালতের এ অভিযানের পরেও দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক হয়নি বলে ক্রেতারা জানিয়েছেন। তবে ব্যবসায়ীদের মতামত হচ্ছে, ক্রেতাদের এমন ভিড় দেখে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যের দাম কিছুটা বেশি রাখছেন।

    ফরিদপুরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলছেন, মানুষ আতঙ্কিত হয়ে এসব পণ্যের মজুদ গড়ছে। আই এই সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ নেবে এটিই স্বাভাবিক। আর পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।
    বাজারে এসব নিত্যপণ্যের দামের পাশাপাশি মাস্ক, গ্লোভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজারেরও দাম বেড়েছে। এসব পণ্যের সংকট বিরাজ করায় ক্রেতারা উচ্চ মূল্যেই সেসব কিনছে।
    ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সকলকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক রয়েছে। বাজারে কোন পণ্যের ঘাটতি হয়নি। কেউ অতি উৎসাহী হয়ে পরিস্থিতি খারাপ করবেন না। বাজার পরিদর্শনে কাউকে অনিয়ম বা অন্যায়ের সাথে জড়িত থাকতে দেখলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
    এদিকে, করোনা ভাইরাস ও উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার বেলা ১২ টার দিকে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জানা গেছে, শুক্রবার পর্যন্ত জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৫শতাধিক বিদেশ ফেরতকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
    এছাড়া নগরকান্দা উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় চরযশোরদী ইউনিয়নের শ্রীবরদি গ্রামের আজিজুল ইসলাম (৪০) কে ১০ হাজার টাকা ও ফুলসূতি ইউনিয়নের হিয়াবলদী গ্রামের মজিবর রহমানে (৩৭) কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

    Tuesday, March 17, 2020

    শুভ জন্মদিন, বাঙ্গালী জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান

    শুভ জন্মদিন, বাঙ্গালী জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান

    নাসিম আহমেদ , প্রতিনিধি জয়পুরহাট 
     প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২০  
    সেদিন ছিল ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ, মঙ্গলবার। রাত ৮টার দিকে মা সায়েরা খাতুনের কোল আলোকিত করে আসেন ইতিহাসের মহানায়ক; বাঙালি ও বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজ বাংলার সেই অবিসংবাদিত নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবুর রহমানের ‘জন্মশতবার্ষিকী’।
    ইতিহাসের খরস্রোতায় ১৯২০ সালের সেদিনের মতো শত বছর পর আজকের দিনটিও মঙ্গলবার। দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে বর্ণিল আলোকসজ্জা, আতশবাজি আর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘বিশ্ববন্ধুর’ জন্মদিন উদযাপন করবে পুরো জাতি।
    আজ বাঙালি জাতির আনন্দে পুলকিত হওয়ার দিন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির জন্মদিনে দেশের ১৬ কোটি মানুষ বিনম্র শ্রদ্ধা, সালাম আর হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা জানাতে উদগ্রীব। আজ থেকে শুরু হচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘মুজিববর্ষ’। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে শুরু হয়েছিল ক্ষণগণনা। গণনা শেষে আজ রাত ৮টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উদ্বোধন করা হবে জাতির পিতার ‘জন্মশতবার্ষিকী’। অনুষ্ঠানটি দেশের সব গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সম্প্রচার করা হবে। শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হবে। এরপর জাতির উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাণী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ, বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানার অনুভূতি প্রকাশ ও তার লেখা কবিতা প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে পাঠ, বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা প্রধানদের ভিডিওবার্তা প্রচার করা হবে।
    বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনটি জাতীয় শিশু দিবস বিধায় শত শিশুর কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত ও দলীয় সঙ্গীতের পরিবেশনা থাকবে। শত শিল্পীর পরিবেশনায় যন্ত্রসঙ্গীত, মুজিববর্ষের থিম সং, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মকে তুলে ধরে একটি থিয়েট্রিকাল পারফরম্যান্স ও বিশ্বখ্যাত কোরিওগ্রাফার আকরাম খানের পরিবেশনা থাকছে প্রোগ্রামে।
    প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে পিক্সেল ম্যাপিংয়ের লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হবে। সারা দেশেও আলোকসজ্জা, আতশবাজি আর বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বছরব্যাপী ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল।
    কিন্তু ‘করোনাভাইরাস’ বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারণ করায় এ সংক্রান্ত সব কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে- জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে দেড় লাখ মানুষ নিয়ে মুজিববর্ষের বর্ণিল উদ্বোধনী আয়োজন, টুঙ্গিপাড়ার শিশুমেলা ও আলোচনা সভা। জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিশ্বনেতাদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তাও বাতিল করা হয়েছে।
    এছাড়া সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে ঘোষিত যেসব কর্মসূচিতে লোকসমাগম হবে এমন অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে আজ সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা চিঠি পাঠের অনুষ্ঠানও ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। আজ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
    এছাড়া বড় আকারে আনন্দ আয়োজন, সেবা ও উন্নয়নের বিষয়গুলো, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা, বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন, গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণ, বাংলা ও ইংরেজিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জন্মশতবার্ষিকী স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের মতো কর্মসূচিগুলো সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
    তদানীন্তন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেয়া শেখ মুজিবুর রহমানের বাবা শেখ লুৎফর রহমান ও মা সায়েরা খাতুন। তাদের চার মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তৃতীয়।
    দিবসটি উপলক্ষে আজ সব সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে থাকছে নানা আয়োজন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
    সকাল ১০টায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া যাবেন। সেখানে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান এ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তারা।
    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০-২১ সালকে মুজিববর্ষ ঘোষণা করে সরকার। মুজিববর্ষ ঘিরে এরই মধ্যে মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
    জাঁকজমকপূর্ণভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদযাপনে দুটি কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ১০২ সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি।’ অপরটি ৬১ সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি।’ কমিটি দুটি বছরব্যাপী কর্মসূচি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে কাজ করবে।
    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টুঙ্গিপাড়ার চিরায়ত গ্রামীণ সমাজের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আবেগ-অনুভূতি শিশুকাল থেকে গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন। গ্রামের মাটি আর মানুষ তাকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করত। শৈশব থেকে তৎকালীন সমাজজীবনে তিনি জমিদার, তালুকদার ও মহাজনদের অত্যাচার, শোষণ ও প্রজা পীড়ন দেখে চরমভাবে ব্যথিত হতেন। গ্রামের হিন্দু, মুসলমানদের সম্মিলিত সম্প্রীতির সামাজিক আবহে তিনি দীক্ষা পান অসাম্প্রদায়িক চেতনার।
    শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতা, যিনি পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা। জনসাধারণের কাছে তিনি ‘শেখ মুজিব’ ও ‘শেখ সাহেব’ হিসেবে বেশি পরিচিত এবং তার উপাধি ‘বঙ্গবন্ধু’।
    শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি ও বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে কালজয়ী নাম। বিশ্ববাঙালির গর্ব- মৃত্যুঞ্জয়ী মহামানব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালি জাতির জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।
    তিনি বাংলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ছুটে বেড়িয়ে বাঙালির কাছে পৌঁছে দেন পরাধীনতার শিকল ভাঙার মন্ত্র। সে মন্ত্রে বলীয়ান হয়ে স্বাধীন দেশে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ আজ বিশ্বে রোল মডেল। তার সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে চলেছে।
    সেদিনের টুঙ্গিপাড়ার অজপাড়াগাঁয় জন্ম নেয়া ‘খোকা’ ডাকনামের সেই শিশুটি পরবর্তী সময়ে হয়ে ওঠেন নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালি জাতির মুক্তির দিশারি। গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, আত্মত্যাগ ও জনগণের প্রতি অসাধারণ মমত্ববোধের কারণেই পরিণত বয়সে হয়ে ওঠেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু।
    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে- সমাজ ও রাজনীতি ‘নেতা’ বা ‘নায়ক’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে নিতে পারেন অনেকেই। মাঝে মাঝে অসাধারণ ক্যারিশমাসম্পন্নরা ‘বড় নেতা’ অথবা ‘মহানায়কের’ আখ্যায়ও ভূষিত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। তবে তারা প্রায় সবাই সমসাময়িক কালের নেতা, চলতি পারিপার্শ্বিকতার প্রেক্ষাপটের নায়ক।
    কিন্তু ‘ইতিহাসের নায়ক’ হওয়ার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ সব কালে, সব যুগে সৃষ্টি হয় না। যুগ-যুগান্তরের পরিক্রমায় হাতেগোনা এক-আধজনই শুধু ‘ইতিহাসের নায়ক’ হয়ে উঠতে পারেন। ইতিহাস তার আপন তাগিদেই ‘নায়কের’ উদ্ভব ঘটায়, আর সেই ‘নায়ক’ই হয়ে ওঠেন ইতিহাস রচনার প্রধান কারিগর ও স্থপতি। বঙ্গবন্ধু ছিলেন তেমনই একজন কালজয়ী পুরুষ।
    কিশোর বয়সেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কৈশোরে তার রাজনীতির দীক্ষাগুরু ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ম্যাট্রিকুলেশন পাসের পর কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরেবাংলা একে ফজলুল হকসহ তৎকালীন প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাদের সান্নিধ্যে আসেন।
    ওই সময় থেকেই নিজেকে ছাত্র-যুবনেতা হিসেবে রাজনীতির অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেন, যোগ দেন আওয়ামী মুসলিম লীগে, যা পরে অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে আওয়ামী লীগ নাম নেয়।
    গোপালগঞ্জের মিশন স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে শেখ মুজিব প্রথমবারের মতো গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন। এরপর শুরু হয় তার আজীবন সংগ্রামীর অভিযাত্রা। তিনি তার ব্যক্তিজীবনের এক-চতুর্থাংশ সময় (১২ বছর ১০ মাস) কারাগারে বন্দি ছিলেন।
    ইতিহাসের পাতায় পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পরপরই ঢাকায় ফিরে নতুন রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা নিয়ে ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ গঠন করেন শেখ মুজিবুর রহমান।
    ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৮-এর আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ঐতিহাসিক ৬ দফা, স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারারুদ্ধ হন তিনি।
    বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ষাটের দশকে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন বাঙালির অদ্বিতীয় নেতা। ১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতা তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়। ১৯৭০-এর নির্বাচনে বাঙালি বঙ্গবন্ধুর ৬ দফার পক্ষে জানায় অকুণ্ঠ সমর্থন।
    ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে শেখ মুজিব বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের প্রতিটি অধ্যায়ে বঙ্গবন্ধুর নাম চিরভাস্বর। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে তার ঐতিহাসিক ভাষণ- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’কে ইউনেস্কো বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে।
    এরপর তাকে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় বঙ্গবন্ধুকে সেখানে কারাবন্দি করে রাখা হয়। সে সময় প্রহসনের বিচার করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার উদ্যোগও নেয় পাকিস্তানি শাসকরা। যদিও পরে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে তা সম্ভব হয়নি। ১৯৭১ সালের ৮ মার্চ পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে আসেন। এরপর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গঠনে মনোনিবেশ করেন।
    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে বিশ্বাসঘাতকদের নির্মম বুলেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। ১৫ আগস্টের কালরাতে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। বঙ্গবন্ধুর বড় কন্যা শেখ হাসিনা বর্তমানে দেশের সফল প্রধানমন্ত্রী।
    বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী খুনি স্বৈরশাসকরা স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানি ভাবধারার বিকৃত ইতিহাস ও মূল্যবোধের বিস্তার ঘটানোর পাঁয়তারা চালায়। খুনিরা ইতিহাসের পাতা থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
    বঙ্গবন্ধু হত্যার পর স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক-স্বৈরাচার তিন দশক ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ভুল ইতিহাস শেখানোর অপচেষ্টা চালায়। খুনিরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে তার চেতনা ও আদর্শকে মুছে ফেলতে পারেনি। তিনি ছিলেন বিশ্বের নির্যাতিত, নিপীড়িত ও শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির দূত- স্বাধীনতা ও শান্তির প্রতীক।
    বাংলা ও বাঙালি যত দিন থাকবে, এ পৃথিবী যত দিন থাকবে, পৃথিবীর ইতিহাস যত দিন থাকবে তিনি একইভাবে প্রোজ্জ্বলিত হবেন প্রতিটি বাঙালি হৃদয়ে, প্রতিটি মুক্তিকামী, শান্তিকামী, মানবতাবাদীর হৃদয়ে। বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শন চিরকাল বাঙালি জাতিকে অনুপ্রাণিত করবে- পথ দেখাবে। বাঙালি জাতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় বাংলাদেশের ইতিহাস বিনির্মাণের কালজয়ী এ মহাপুরুষকে চিরকাল স্মরণ করবে।
    বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং সারা দেশে সংগঠনের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন।
    সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। এছাড়া দিনটিতে টুঙ্গিপাড়ার কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের প্রতিনিধি দল টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন। পরে তারা সেখানে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ করবেন।
    এছাড়া দেশব্যাপী মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণের কর্মসূচি আছে আওয়ামী লীগের। এছাড়া রাত ৮টায় সারা দেশে একযোগে আতশবাজি প্রদর্শনী ও ফানুস উড়ানো।
    আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ধানমণ্ডি-৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে, ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ধানমণ্ডির রবীন্দ্রসরোবর, হাতিরঝিল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় আতশবাজি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে আলোকসজ্জা করা হবে।

    Monday, March 16, 2020

    ১৭ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

    ১৭ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

    জয়পুরহাট
     প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০২০  
    করোনাভাইরাসের প্রেক্ষাপটে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আপাতত ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বিকেলে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি হবে। 
    শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরাও বন্ধ ঘোষণা করবো। বিকেলে বৈঠক করে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।
    এর আগে রোববার দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে শুধু পরামর্শ দিয়েছে। গতকাল সকালেই দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের প্রেক্ষাপটে সব স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। এ রিটে দেশের স্থল, নৌ এবং বিমানবন্দরও বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। 
    গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি উঠেছিল। ৮ মার্চ ৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর কথা জানালেও গত শনিবার দুপুরে আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী নেই। যে তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাদের সবাই এখন করোনামুক্ত। পরে রাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালিক জানান, দেশে আরো দুজন আক্রান্ত হয়েছেন। নতুন আক্রান্ত দুজনের একজন ইতালি থেকে এবং অন্যজন জার্মানি থেকে সম্প্রতি দেশে এসেছেন।
    গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। পরে ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্বে। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বিশ্বের ১৫৭টি দেশ ও অঞ্চলের জনগণ। ইতালিতে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয় হাজার ৫১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৬৯ হাজার ৬১০ জন। সুস্থ হয়েছেন ৭৭ হাজার ৭৭৬ জন। 
    আকাশপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আছে প্রায় অর্ধেক পৃথিবী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনাভাইরাসের এখন কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউরোপ।