Friday, March 20, 2020

করোনায় ইরানে প্রতি ১০ মিনিটে একজনের মৃত্যু

করোনায় ইরানে প্রতি ১০ মিনিটে একজনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক | ২০ মার্চ, ২০২০ 

Thursday, March 19, 2020

কাহালুতে হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় বিদেশ ফেরতের জরিমানা

কাহালুতে হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় বিদেশ ফেরতের জরিমানা

কাহালুতে হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় বিদেশ ফেরতের জরিমানা

করোনা মোকাবেলায় সরকারি নির্দেশ মোতাবেক বগুড়ার কাহালু উপজেলায় বিদেশ ফেরতদের উপর বিশেষ নজরদারি রাখছেন উপজেলা প্রশাসন।এদিকে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় কাহালু সদর ইউনিয়নের খাজলাল গ্রামের বিদেশ ফেরত অজামিল চন্দ্রকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাছুদুর রহমান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাহালু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ মুহাম্মদ যাকারিয়া রানা ও কাহালু থানার পুলিশ সদস্যবৃন্দ।
অজামিল চন্দ্র গত ১৭ মার্চ ভারত থেকে দেশে ফিরে সরকারি আদেশ অমান্য করে হোম কোয়ারেন্টাইনে না থেকে অবাধে বাইরে ঘোরাফেরা করা শুরু করেন। এ জন্য তাকে ভ্রাম্যমাণ আদাল এ জরিমানা করেন।
কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাছুদুর রহমান বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের সঙ্গে সঙ্গে তথ্য দেওয়ার জন্য জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রতি আহবান জানান। তথ্য দেওয়ার জন্য
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোবাইল নম্বর ০১৭৩৩৩৩৫৪৪১,
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ০১৭২০০১৭৩৮৫।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আরো ১০ থেকে ১৫ গুণ ভয়ঙ্কর হবে: মার্কিন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আরো ১০ থেকে ১৫ গুণ ভয়ঙ্কর হবে: মার্কিন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আরো ১০ থেকে ১৫ গুণ ভয়ঙ্কর হবে: মার্কিন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ।





করোনা ভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়ে দিনদিন মৃ’তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে মৃ’ত্যু হয়েছে ৩ হাজার ২৮৫ জনের। বিভিন্ন দেশে দেড় লক্ষ মানুষ এ ভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৩ হাজার ৬৮৮ জন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আ’ক্রান্ত তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এমতাবস্তায়, মা’র্কিন সংক্রমক রোগ বিশেষজ্ঞ মাইকেল অস্টারহোম বলেন,‘এটা তো কেবল শুরু। আঘাত, ব্যাথা, দুর্ভোগ, সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যার কথা বিবেচনা করলে বোঝা যায় যে, এটা কেবল আসলেই শুরু। এই অবস্থা সামনের মাসগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। আর মানুষও আক্রান্ত হতেই থাকবে।’
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সবচেয়ে মারাত্মক সিজনাল ফ্লু’র তুলনায় করোনাভাইরাস আরো ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশি ভয়ঙ্কর হতে পারে। করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার যেভাবে মানুষ সুরক্ষিত থাকার পরামর্শ দিচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে না যে- এসব পরামর্শ মেনে চললে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক ও হাত মোজা ব্যবহারের বিষয়টিকে ‘বোকামি’ (ননসেন্স) বলেও মত দেন তিনি।

Tuesday, March 17, 2020

 জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষার সময়সূচী ২০১৯

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষার সময়সূচী ২০১৯


 জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষার সময়সূচী ২০১৯

ষষ্ঠ শ্রেণিতে ফেল করা ছেলেটাই গড়ে তুলেছে ৪০০ কোটি টাকার ব্যবসা!

ষষ্ঠ শ্রেণিতে ফেল করা ছেলেটাই গড়ে তুলেছে ৪০০ কোটি টাকার ব্যবসা!

ষষ্ঠ শ্রেণিতে ফেল করা ছেলেটাই গড়ে তুলেছে ৪০০ কোটি টাকার ব্যবসা!

বোর্ডের পরীক্ষা চলছে ভারতজুড়ে। কারও খুব ভাল পরীক্ষা হচ্ছে, তো কেউ আবার পরীক্ষা হল থেকে বেরিয়েই কাঁচুমাচু মুখ নিয়ে বাড়ি ফিরছে। আর সবচেয়ে ভয়ানক অবস্থা হবে ফলাফল প্রকাশের দিন। কারও বাড়ি মিষ্টির প্যাকেটে ভরে যাবে, আর কেউ খারাপ ফলাফলের জন্য হয়তো হতাশায় ডুবে যাবেন। কিন্তু একটা পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া মানেই জীবনে ব্যর্থ হওয়া নয়। আমাদের চারপাশেই এমন অনেকে রয়েছেন, যারা স্কুলের পরীক্ষায় একেবারেই ভাল ফল করে উঠতে পারেননি, কিন্তু আজ তারাই জীবনে প্রকৃত সাফল্য অর্জন করেছেন। ক্লাসে প্রথম হওয়া সেই সহপাঠীকেও অনেক পেছনে ফেলে এসেছেন।
এমন একজন হলেন ভারতীয় যুবক পিসি মোস্তফা। যিনি ভীষণ সাধারণ মানের পড়ুয়া ছিলেন স্কুলে। নিজের ইচ্ছাশক্তির জোরে এবং আত্মবিশ্বাসের উপর ভর করে আজ তাকে সারা দেশ চেনে।
কেরালার ওয়ানাডের এক প্রত্যন্ত এলাকায় তার জন্ম। পরিবারের কেউই পড়াশোনা করেননি।
মোস্তাফাই পরিবারের প্রথম সন্তান যিনি স্কুলে ভর্তি হন। তবে দারিদ্র এবং সঠিক পরিবেশের অভাব তার পড়াশোনায় প্রথম থেকেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
ষষ্ঠ শ্রেণিতেই ফেল করে বসেন। তার পরিবারের যা অবস্থা ছিল, তাতে ফেল করা মানেই ভবিতব্য ছিল বাবা কোনো না কোনো কাজে তাকে লাগিয়ে দেবেন। তেমনটাই হয়েছিল। একটা ছোট কারখানায় দিনমজুরের কাজে লাগিয়ে দেন বাবা। সেই ছোট বয়সেই নিজের ভবিষ্যত্টা দেখে নিয়েছিলেন মোস্তাফা।
পড়াশোনা ছাড়া যে একটা ভাল জীবন পাওয়া কোনো ভাবেই সম্ভব নয়, তা বেশ বুঝতে পেরেছিলেন। কিছু দিন কাজ করার পরই তিনি নিজেকে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়ার মনোস্থির করেন। না, এবার আর থেমে থাকেননি। খুব মন দিয়ে পড়াশোনা করতে শুরু করেন।
স্কুল পাশ করে কালিকটের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে ফেলেন। প্রথমে বেঙ্গালুরুর মোটোরোলা কোম্পানিতে কাজ পান তিনি। তারপর সেখান থেকে প্রমোশন পেয়ে ব্রিটেনে চলে যান কয়েক বছরের জন্য।
জীবনটা গুছিয়ে ফেলেছিলেন মোস্তাফা। বর্তমানও ঝকঝকে করে ফেলেছিলেন কঠোর পরিশ্রমে। কিন্তু তাতেও মন মানছিল না তার। কোনো ভাবে এটাকেই জীবনের সাফল্য ভেবে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারছিলেন না। তার উপর দেশের প্রতি টানটাও ভুলতে পারছিলেন না। আর বিদেশি খাবারও মুখে সই ছিল না।
কয়েক বছর পর বিদেশের পাঠ চুকিয়ে দেশে ফিরে আসেন মোস্তাফা। বেঙ্গালুরু থেকে এমবিএ করেন। তখনই নিজের ব্যবসা শুরু করার কথা মাথায় আসে তার। বেঙ্গালুরুর থিপাসানদ্রাতে তার আত্মীয়দের একটি দোকান ছিল। মাঝে মধ্যেই সেখানে বসে গল্পগুজবে কাটিয়ে দিতেন।
খুব অবাক হয়ে দেখতেন, প্রতিদিনই ইডলি এবং দোসার ব্যাটার মহিলারা দোকান থেকে কিনে নিয়ে যান। ইডলি-দোসার এই ব্যাটারের চাহিদাও প্রচুর। সে যত খারাপ মানেরই হোক না কেন, দোকানে রোজ শেষ হয়ে যেত সেগুলো। তা থেকেই প্যাকেজড ফুড ব্যবসার কথা মাথায় আসে তার।
প্রথমে মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। খুড়তুতো ভাইদের সঙ্গে মিলে ইডলি-দোসা বানানোর ব্যাটার তৈরির ব্যবসা শুরু করে দেন। একটা ছোট দোকান নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন প্রথমে। কিছু ব্যাটার বানিয়ে আশেপাশের মহিলাদের মধ্যে প্যাকেট করে বিতরণ করেন।
প্রথমে চালের গুঁড়া কিনে ব্যাটার বানাতে শুরু করেন। রাতারাতি হিট হয়ে যায় পরিকল্পনা। প্রথমে ব্যাটার খুব একটা ভাল না বানাতে পারলেও, যত দিন যায় আদর্শ ব্যাটার বানাতে শুরু করেন তারা।
২০০৮ সালে তারা ৫০ বর্গ ফুটের একটা ছোট রান্নাঘর ভাড়া নেন তিনি। সঙ্গে কেনেন একটা গ্রাইন্ডার। স্কুটারে করে ব্যাটারগুলো বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে শুরু করেন তারা। একটু জনপ্রিয় হলে কোম্পানির নাম দেন বেস্ট ফুড প্রাইভেট লিমিটেড। পরে নাম বদলে রাখেন আইডি স্পেশাল ফুডস প্রাইভেট লিমিটেড।
২০১০ সাল নাগাদ তাদের ব্যবসা ৪ কোটি ছুঁয়ে ফেলে। ততদিনে ৪০ জন কর্মচারীও নিয়োগ করে ফেলেছেন মোস্তাফা। যদিও তখনও শুধুমাত্র বেঙ্গালুরুতেই এই ব্যাটার সরবরাহ করতেন তিনি।
এখন ৫০ কেজি ব্যাটার সরবরাহ করে তার কোম্পানি। সঙ্গে যোগ হয়েছে ৪০ হাজার চাপাটি, দু’লাখ পরোটা, দু’হাজার টমেটো এবং ধনেপাতার চাটনির প্যাকেট।
এই মুহূর্তে আটটি শহরে পৌঁছে গিয়েছে তার কোম্পানি। দেশে বেঙ্গালুরু, মাইসুরু, ম্যাঙ্গালুরু, চেন্নাই, মুম্বাই, হায়দরাবাদ, পুণে এবং বিদেশে শারজাতেও রয়েছে তার সংস্থা। ডেলিভারির জন্য কোম্পানির নিজস্ব ২০০টা গাড়ি রয়েছে। কর্মচারীর সংখ্যা ৬৫০।
আর এখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে ফেল করা সেই ছেলেটার ব্যবসা কোথায় পৌঁছে গিয়েছে? ২০১৯-২০ সালে কোম্পানি ৩৫০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা টার্নওভার আশা করছে।
জয়পুরহাটের কৃষকরা বোরোর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন

জয়পুরহাটের কৃষকরা বোরোর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন

জয়পুরহাটের কৃষকরা বোরোর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন

নাসিম  আহমেদ  ,জয়পুরহাট 

খাদ্যে উদ্বৃত্ত জেলা জয়পুরহাটে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চলতি ২০১৯-২০ রবি ফসল উৎপাদন মৌসুমে বোরো চাষে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করে। রোপা আমন ও আলুর বাম্পার ফলনের পর জেলার কৃষকরা এখন বোরো ধানের পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্থানিয় কৃষি বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে চলতি ২০১৯-২০ রবি ফসল চাষ মৌসুমে জেলায় ৭২ হাজার ২ শ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ৬২ হাজার ৮ শ হেক্টর ও হাইব্রিড জাতের রয়েছে ৯ হাজার ৪ শ হেক্টর জমি।
এতে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৯ শ ৯ মে.টন। ২০১৮-২০১৯ মৌসুমে জেলায় ৬৯ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছিল এবং এতে উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৫ মে. টন চাল। যা জেলার খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য স্থানে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন হয়েছিল ৪ দশমিক ৬৩ মে.টন চাল।
জেলায় বোরো চাষ সফল করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগ ইতোমধ্যে মার্চ মাসের সারের বরাদ্দ পেয়েছে । যার মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া ৫ হাজার ২১৩ মে. টন, টিএসপি ১ হাজার ৩১৩ মে. টন, এমওপি ১ হাজার ৫শ ৮৩ মে. টন ও ডিএপি ১ হাজার ২ শ ৪৬ মে. টন। বোরো চাষে সেচ সুবিধা প্রদানের জন্য ১ হাজার ৯৫৫ টি গভীর ও ৮ হাজার ৫৯৮টি অগভীর নলকূপ চালু করা হয়েছে।
কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বোরো বীজ সরবরাহ করেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন। নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্রসহ জেলার ১ শ ১৪ জন বীজ ডিলারের মাধ্যম ওই বীজ বিক্রি করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে বোরো চাষ সফল করতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শ. ম মেফতাহুল বারী।
শুভ জন্মদিন, বাঙ্গালী জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান

শুভ জন্মদিন, বাঙ্গালী জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান

নাসিম আহমেদ , প্রতিনিধি জয়পুরহাট 
 প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২০  
সেদিন ছিল ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ, মঙ্গলবার। রাত ৮টার দিকে মা সায়েরা খাতুনের কোল আলোকিত করে আসেন ইতিহাসের মহানায়ক; বাঙালি ও বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজ বাংলার সেই অবিসংবাদিত নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবুর রহমানের ‘জন্মশতবার্ষিকী’।
ইতিহাসের খরস্রোতায় ১৯২০ সালের সেদিনের মতো শত বছর পর আজকের দিনটিও মঙ্গলবার। দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে বর্ণিল আলোকসজ্জা, আতশবাজি আর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘বিশ্ববন্ধুর’ জন্মদিন উদযাপন করবে পুরো জাতি।
আজ বাঙালি জাতির আনন্দে পুলকিত হওয়ার দিন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির জন্মদিনে দেশের ১৬ কোটি মানুষ বিনম্র শ্রদ্ধা, সালাম আর হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা জানাতে উদগ্রীব। আজ থেকে শুরু হচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘মুজিববর্ষ’। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে শুরু হয়েছিল ক্ষণগণনা। গণনা শেষে আজ রাত ৮টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উদ্বোধন করা হবে জাতির পিতার ‘জন্মশতবার্ষিকী’। অনুষ্ঠানটি দেশের সব গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সম্প্রচার করা হবে। শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হবে। এরপর জাতির উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাণী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ, বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানার অনুভূতি প্রকাশ ও তার লেখা কবিতা প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে পাঠ, বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা প্রধানদের ভিডিওবার্তা প্রচার করা হবে।
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনটি জাতীয় শিশু দিবস বিধায় শত শিশুর কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত ও দলীয় সঙ্গীতের পরিবেশনা থাকবে। শত শিল্পীর পরিবেশনায় যন্ত্রসঙ্গীত, মুজিববর্ষের থিম সং, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মকে তুলে ধরে একটি থিয়েট্রিকাল পারফরম্যান্স ও বিশ্বখ্যাত কোরিওগ্রাফার আকরাম খানের পরিবেশনা থাকছে প্রোগ্রামে।
প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে পিক্সেল ম্যাপিংয়ের লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হবে। সারা দেশেও আলোকসজ্জা, আতশবাজি আর বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বছরব্যাপী ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল।
কিন্তু ‘করোনাভাইরাস’ বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারণ করায় এ সংক্রান্ত সব কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে- জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে দেড় লাখ মানুষ নিয়ে মুজিববর্ষের বর্ণিল উদ্বোধনী আয়োজন, টুঙ্গিপাড়ার শিশুমেলা ও আলোচনা সভা। জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিশ্বনেতাদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তাও বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে ঘোষিত যেসব কর্মসূচিতে লোকসমাগম হবে এমন অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে আজ সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা চিঠি পাঠের অনুষ্ঠানও ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। আজ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এছাড়া বড় আকারে আনন্দ আয়োজন, সেবা ও উন্নয়নের বিষয়গুলো, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা, বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন, গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণ, বাংলা ও ইংরেজিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জন্মশতবার্ষিকী স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের মতো কর্মসূচিগুলো সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
তদানীন্তন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেয়া শেখ মুজিবুর রহমানের বাবা শেখ লুৎফর রহমান ও মা সায়েরা খাতুন। তাদের চার মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তৃতীয়।
দিবসটি উপলক্ষে আজ সব সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে থাকছে নানা আয়োজন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
সকাল ১০টায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া যাবেন। সেখানে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান এ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তারা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০-২১ সালকে মুজিববর্ষ ঘোষণা করে সরকার। মুজিববর্ষ ঘিরে এরই মধ্যে মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
জাঁকজমকপূর্ণভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদযাপনে দুটি কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ১০২ সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি।’ অপরটি ৬১ সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি।’ কমিটি দুটি বছরব্যাপী কর্মসূচি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে কাজ করবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টুঙ্গিপাড়ার চিরায়ত গ্রামীণ সমাজের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আবেগ-অনুভূতি শিশুকাল থেকে গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন। গ্রামের মাটি আর মানুষ তাকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করত। শৈশব থেকে তৎকালীন সমাজজীবনে তিনি জমিদার, তালুকদার ও মহাজনদের অত্যাচার, শোষণ ও প্রজা পীড়ন দেখে চরমভাবে ব্যথিত হতেন। গ্রামের হিন্দু, মুসলমানদের সম্মিলিত সম্প্রীতির সামাজিক আবহে তিনি দীক্ষা পান অসাম্প্রদায়িক চেতনার।
শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতা, যিনি পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা। জনসাধারণের কাছে তিনি ‘শেখ মুজিব’ ও ‘শেখ সাহেব’ হিসেবে বেশি পরিচিত এবং তার উপাধি ‘বঙ্গবন্ধু’।
শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি ও বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে কালজয়ী নাম। বিশ্ববাঙালির গর্ব- মৃত্যুঞ্জয়ী মহামানব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালি জাতির জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।
তিনি বাংলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ছুটে বেড়িয়ে বাঙালির কাছে পৌঁছে দেন পরাধীনতার শিকল ভাঙার মন্ত্র। সে মন্ত্রে বলীয়ান হয়ে স্বাধীন দেশে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ আজ বিশ্বে রোল মডেল। তার সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে চলেছে।
সেদিনের টুঙ্গিপাড়ার অজপাড়াগাঁয় জন্ম নেয়া ‘খোকা’ ডাকনামের সেই শিশুটি পরবর্তী সময়ে হয়ে ওঠেন নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালি জাতির মুক্তির দিশারি। গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, আত্মত্যাগ ও জনগণের প্রতি অসাধারণ মমত্ববোধের কারণেই পরিণত বয়সে হয়ে ওঠেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে- সমাজ ও রাজনীতি ‘নেতা’ বা ‘নায়ক’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে নিতে পারেন অনেকেই। মাঝে মাঝে অসাধারণ ক্যারিশমাসম্পন্নরা ‘বড় নেতা’ অথবা ‘মহানায়কের’ আখ্যায়ও ভূষিত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। তবে তারা প্রায় সবাই সমসাময়িক কালের নেতা, চলতি পারিপার্শ্বিকতার প্রেক্ষাপটের নায়ক।
কিন্তু ‘ইতিহাসের নায়ক’ হওয়ার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ সব কালে, সব যুগে সৃষ্টি হয় না। যুগ-যুগান্তরের পরিক্রমায় হাতেগোনা এক-আধজনই শুধু ‘ইতিহাসের নায়ক’ হয়ে উঠতে পারেন। ইতিহাস তার আপন তাগিদেই ‘নায়কের’ উদ্ভব ঘটায়, আর সেই ‘নায়ক’ই হয়ে ওঠেন ইতিহাস রচনার প্রধান কারিগর ও স্থপতি। বঙ্গবন্ধু ছিলেন তেমনই একজন কালজয়ী পুরুষ।
কিশোর বয়সেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কৈশোরে তার রাজনীতির দীক্ষাগুরু ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ম্যাট্রিকুলেশন পাসের পর কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরেবাংলা একে ফজলুল হকসহ তৎকালীন প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাদের সান্নিধ্যে আসেন।
ওই সময় থেকেই নিজেকে ছাত্র-যুবনেতা হিসেবে রাজনীতির অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেন, যোগ দেন আওয়ামী মুসলিম লীগে, যা পরে অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে আওয়ামী লীগ নাম নেয়।
গোপালগঞ্জের মিশন স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে শেখ মুজিব প্রথমবারের মতো গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন। এরপর শুরু হয় তার আজীবন সংগ্রামীর অভিযাত্রা। তিনি তার ব্যক্তিজীবনের এক-চতুর্থাংশ সময় (১২ বছর ১০ মাস) কারাগারে বন্দি ছিলেন।
ইতিহাসের পাতায় পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পরপরই ঢাকায় ফিরে নতুন রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা নিয়ে ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ গঠন করেন শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৪৮ থেকে ১৯৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৮-এর আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ঐতিহাসিক ৬ দফা, স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারারুদ্ধ হন তিনি।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ষাটের দশকে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন বাঙালির অদ্বিতীয় নেতা। ১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতা তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়। ১৯৭০-এর নির্বাচনে বাঙালি বঙ্গবন্ধুর ৬ দফার পক্ষে জানায় অকুণ্ঠ সমর্থন।
১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে শেখ মুজিব বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের প্রতিটি অধ্যায়ে বঙ্গবন্ধুর নাম চিরভাস্বর। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে তার ঐতিহাসিক ভাষণ- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’কে ইউনেস্কো বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে।
এরপর তাকে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় বঙ্গবন্ধুকে সেখানে কারাবন্দি করে রাখা হয়। সে সময় প্রহসনের বিচার করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার উদ্যোগও নেয় পাকিস্তানি শাসকরা। যদিও পরে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে তা সম্ভব হয়নি। ১৯৭১ সালের ৮ মার্চ পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে আসেন। এরপর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গঠনে মনোনিবেশ করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে বিশ্বাসঘাতকদের নির্মম বুলেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। ১৫ আগস্টের কালরাতে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। বঙ্গবন্ধুর বড় কন্যা শেখ হাসিনা বর্তমানে দেশের সফল প্রধানমন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী খুনি স্বৈরশাসকরা স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানি ভাবধারার বিকৃত ইতিহাস ও মূল্যবোধের বিস্তার ঘটানোর পাঁয়তারা চালায়। খুনিরা ইতিহাসের পাতা থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
বঙ্গবন্ধু হত্যার পর স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক-স্বৈরাচার তিন দশক ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ভুল ইতিহাস শেখানোর অপচেষ্টা চালায়। খুনিরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে তার চেতনা ও আদর্শকে মুছে ফেলতে পারেনি। তিনি ছিলেন বিশ্বের নির্যাতিত, নিপীড়িত ও শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির দূত- স্বাধীনতা ও শান্তির প্রতীক।
বাংলা ও বাঙালি যত দিন থাকবে, এ পৃথিবী যত দিন থাকবে, পৃথিবীর ইতিহাস যত দিন থাকবে তিনি একইভাবে প্রোজ্জ্বলিত হবেন প্রতিটি বাঙালি হৃদয়ে, প্রতিটি মুক্তিকামী, শান্তিকামী, মানবতাবাদীর হৃদয়ে। বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শন চিরকাল বাঙালি জাতিকে অনুপ্রাণিত করবে- পথ দেখাবে। বাঙালি জাতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় বাংলাদেশের ইতিহাস বিনির্মাণের কালজয়ী এ মহাপুরুষকে চিরকাল স্মরণ করবে।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং সারা দেশে সংগঠনের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন।
সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। এছাড়া দিনটিতে টুঙ্গিপাড়ার কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের প্রতিনিধি দল টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন। পরে তারা সেখানে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ করবেন।
এছাড়া দেশব্যাপী মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণের কর্মসূচি আছে আওয়ামী লীগের। এছাড়া রাত ৮টায় সারা দেশে একযোগে আতশবাজি প্রদর্শনী ও ফানুস উড়ানো।
আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ধানমণ্ডি-৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে, ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ধানমণ্ডির রবীন্দ্রসরোবর, হাতিরঝিল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় আতশবাজি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে আলোকসজ্জা করা হবে।

Monday, March 16, 2020

১৭ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

১৭ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

জয়পুরহাট
 প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০২০  
করোনাভাইরাসের প্রেক্ষাপটে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আপাতত ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বিকেলে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি হবে। 
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরাও বন্ধ ঘোষণা করবো। বিকেলে বৈঠক করে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।
এর আগে রোববার দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে শুধু পরামর্শ দিয়েছে। গতকাল সকালেই দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের প্রেক্ষাপটে সব স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। এ রিটে দেশের স্থল, নৌ এবং বিমানবন্দরও বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। 
গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি উঠেছিল। ৮ মার্চ ৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর কথা জানালেও গত শনিবার দুপুরে আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী নেই। যে তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাদের সবাই এখন করোনামুক্ত। পরে রাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালিক জানান, দেশে আরো দুজন আক্রান্ত হয়েছেন। নতুন আক্রান্ত দুজনের একজন ইতালি থেকে এবং অন্যজন জার্মানি থেকে সম্প্রতি দেশে এসেছেন।
গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। পরে ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্বে। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বিশ্বের ১৫৭টি দেশ ও অঞ্চলের জনগণ। ইতালিতে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয় হাজার ৫১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৬৯ হাজার ৬১০ জন। সুস্থ হয়েছেন ৭৭ হাজার ৭৭৬ জন। 
আকাশপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আছে প্রায় অর্ধেক পৃথিবী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনাভাইরাসের এখন কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউরোপ।
পাঁচ মাস পর জয়পুরহাট হিলি বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু

পাঁচ মাস পর জয়পুরহাট হিলি বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু

 প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০২০  
দীর্ঘ পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে জয়পুরহাট হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দেশে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। রোববার বিকেল ৩টা ৪০ মিঃ ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক বন্দরের পানামা পোর্টে প্রবেশ করে। ফলে বন্দরে কর্মচাঞ্চল্যতা ফিরে আসে।
গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর অভ্যন্তরীণ সংকট দেখিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজের রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। একারণে ভারত থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে পড়লে দেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে প্রতি কেজি ২৬০ টাকার উপরেও বেচা-কেনা হয়। এ অবস্থায় দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার দ্রুত মিয়ানমার, পাকিস্তান সহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করে।
গত ২ মার্চ জয়পুরহাট হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়িরা পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি চেয়ে ঢাকার খামাড়বাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রে আবেদন করেন। গতকাল অনুমতি পাওয়ার রবিবার বিকেল থেকে পুনরায় শুরু হয় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি।
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে আলো ঝলমলে টুঙ্গিপাড়া

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে আলো ঝলমলে টুঙ্গিপাড়া

জয়পুরহাট
 প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০২০  
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার সমাধিসৌধকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ ছাড়াও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইনস্ থেকে বেদগ্রাম মোড়, গোপালগঞ্জ-বাশবাড়িয়া সড়কের ঘোনাপাড়া থেকে টুঙ্গিপাড়া পর্যন্ত করা হয়েছে আলোকসজ্জা। সড়ক-মহাসড়ক ছেয়ে গেছে ব্যানার-ফেস্টুন-তোরণে। টুঙ্গিপাড়াসহ গোপালগঞ্জের সর্বত্রই যেন সাজ সাজ রব।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধির আলোকসজ্জা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধির আলোকসজ্জা
মুজিববর্ষ উপলক্ষে গোপালগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায় থাকছে নানা আয়োজন। গণ্যমান্যরা জানান, টুঙ্গিপাড়ায় বর্ণিল আয়োজন এবারই প্রথম। এমন আয়োজনে মুগ্ধ গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার বানুষ। বর্ণিল সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে আসছেন হাজারো দর্শনার্থী।
জাতির জনকের সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সের সহকারী কিউরেটর মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ১৭ মার্চ সকালে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শুরু হবে জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন। এ উপলক্ষে সমাধিসৌধের মূল স্তম্ভ, বঙ্গবন্ধু ভবন, বকুলতলা চত্বরে উন্নয়নমূলক শোভাবর্ধন ও আলোকসজ্জার কাজ শেষ হয়েছে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড
মুজিববর্ষ উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড
টুঙ্গিপাড়া আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল বাশার খায়ের জানান, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ১৭ মার্চ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস করা হলেও আয়োজনে কোনো কমতি রাখা হয়নি।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান বলেন, মুজিববর্ষ উদযাপনে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।

আলো ঝলমলে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স
আলো ঝলমলে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স

গোপালগঞ্জের এসপি মো. সাঈদুর রহমান খান জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গোপালগঞ্জের ডিসি শাহিদা সুলতানা জানান, গোপালগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে মুজিববর্ষ উদযাপনে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এরইমধ্যে আলোকসজ্জা ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শেষ হয়েছে।