Saturday, March 21, 2020

বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারির পরামর্শ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারির পরামর্শ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারির পরামর্শ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার 
আশকোনা হজ ক্যাম্পে ইতালি থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিরা। ছবি: ফাইল, ফোকাস বাংলা
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা জারির পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। একইসঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশের কোথাও কোথাও লকডাউন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার নিজ বাসভবনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এসব তথ্য জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।
মেয়র বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়েছে, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি আগামীতে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। এটাকে প্রতিরোধের জন্য এখনই সর্বশক্তি দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিছু কিছু এলাকা আংশিক লকডাউন করা হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও পুরোপুরি লকডাউন করা হয়েছে। অনেক দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। লকডাউন এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করায় তারা ভালো ফল পেয়েছে। সে দেশগুলোতে নতুন আক্রান্তের সংখ্হয়েছে। কোথাও কোথাও আক্রান্তের সংখ্যা কমে এসেছে। আবার কোথাও কোথাও শূন্যতে চলে এসেছে।
তিনি বলেন, ঢাকা একটি জনবহুল শহর। বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এখানে সম্পূর্ণ লকডাউন করা কঠিন। তারপরও তারা (ডব্লিউএইচও) ঢাকা কিংবা অন্য কোনও এলাকা আংশিক লকডাউন অথবা ইমার্জেন্সি (জরুরি অবস্থা) ঘোষণা করা যায় কিনা সে বিষয়ে আমাদের পরামর্শ দিয়েছে। সেটি আমরা সরকারের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেব।
ঢাকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আবাসিক প্রতিনিধি ড. বর্ধন জং রানা বলেন, আমরা তো কোনও সিদ্ধান্ত দিতে পারি না। এটা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিষয়। আমরা কেউ ঝুঁকির বাইরে নেই।
বৈঠকে ছিলেন, ঢাকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আবাসিক প্রতিনিধি ড. বর্ধন জং রানা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি প্রধান ডা. ইআই সাক্কা হাম্মান, ইউএস সিডিসি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মিহাল এ ফ্রাদমান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক প্রফেসর ডা. এবিএম আব্দুল্লাহসহ আরো অনেকে।
এদিকে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২৪ জন হয়েছে। মৃত্যুও বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুইজনে।
পণ্যের দাম বেশি রাখলে ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ করুন

পণ্যের দাম বেশি রাখলে ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ করুন

 নিজস্ব প্রতিবেদক
ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিতে চালু হয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ভোক্তা অভিযোগ তথা 'ভোক্তা বাতায়ন' শীর্ষক হটলাইন সেবা। ১৬১২১ হটলাইন নম্বরে সপ্তাহের সাতদিন ২৪ ঘণ্টা এ সেবা চালু থাকবে। যেখানে কোনো ভোক্তা পণ্য বা সেবা ক্রয় করে প্রতারিত হলে সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ করতে পারবেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
রোববার (১৫ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস-২০২০ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও হট লাইন উদ্বোধন করে এসব কথা বলেন তিনি।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার-সুরক্ষিত ভোক্তা-অধিকার’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আজ বিশ্বভোক্তা অধিকার দিবস পালিত হচ্ছে।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভোক্তাদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বাজারব্যবস্থা হতে হবে ভোক্তাবান্ধব ও নিরাপদ। বাজার মানেই ক্রেতা-বিক্রেতার সহাবস্থান, ব্যবসা মানেই ক্রেতা-বিক্রেতার মিথষ্ক্রিয়া। ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছা, চেষ্টা, আইনানুগ ব্যবসা পরিচালনাই গড়ে তুলতে পারে একটি সুস্থ এবং সহযোগীতামূলক উৎপাদক ব্যবসায়ী ভোক্তা সম্পর্ক।’
তিনি বলেন, ‘ন্যায্য মূল্য ভেজালহীন পণ্য বা সেবা পাওয়া ভোক্তাদের অধিকার। এ বিষয়ে সচেতন করতে পারলে জরিমানার প্রশ্নটা কমে যাবে, মানুষ আর অন্যায় কাজ করবে না।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবুল কুমার সাহা।

বাণিজ্যসচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম রহমান, ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান তপন কান্তি ঘোষ, প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Friday, March 20, 2020

আক্কেলপুরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

আক্কেলপুরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু


মওদুদ আহমেদঃ
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে পানিতে ডুবে মুনিরা খাতুন নামের এক বছর বয়সী কন্যা শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাটি পৌর সদরের পালপাড়া গ্রামে ঘটেছে। শিশুটি ওই এলাকার এমরান হোসেনের কন্যা।
হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২০ র্মাচ) সকাল সাড়ে ১০ টায় এমরান হোসেনের স্ত্রী মারফিয়া বেগম বাড়িতে কাজ করছিল। এসময় বাড়িতে থাকা এক বছরের শিশু মুনিরা খাতুন সকলের অগোচরে অসাবধানতা বসত বাড়ির পার্শ্বে একটি পুকুরে পড়ে যায়। পরে শিশুটিকে আশপাশে কোথাও খুজে না পেয়ে স্থানীয়রা শিশুটিকে পুকুরে ভাসতে দেখে দ্রæত উদ্ধার করে।
আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ কাজল সরকার শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় করোনাভাইরাস সাইট চালু করেছে গুগল

স্বাস্থ্য পরীক্ষায় করোনাভাইরাস সাইট চালু করেছে গুগল

সোশ্যাল মিডিয়া

চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে শুরু হওয়া করোনাভাইরাস এখন সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তবে এই রোগের কোনো প্রতিষেধক বা টিকা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি।
এবার করোনা মোকাবেলায় একটি স্বাস্থ্য পরীক্ষার সাইট লঞ্চিং করেছে মার্কিন টেক জায়ান্ট গুগল।
শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় গুগল কর্তৃক একটি সাইট তৈরির ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প বলেন, আমেরিকানদের করোনা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরিষেবা দিতে সাইটটি চালু করা হয়েছে। এই সাইটের মাধ্যমে নাগরিকরা জানতে পারবে তাদের করোনা টেস্ট করা উচিত কিনা।
গুগলের আওতাধীন কোম্পানি ভেরিলি এই করোনাভাইরাস সাইট নিয়ে কাজ করছে। এই পাইলট প্রকল্পটি নির্দিষ্ট পরিসরে শুধু উপকূলীয় এলাকায় পরিচালনা করা হবে।

সোমবার গুগল কর্তৃপক্ষ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দুটি সাইট চালু করা হয়েছে। তবে কেবল স্থানীয়করণের মধ্যে করোনা টেস্ট ফিচারটি সীমিত থাকবে।
এই সাইট থেকে জানা যাবে করোনা সংক্রান্ত অনেক তথ্য ও নির্দেশনা। এ ছাড়া নির্দিষ্ট অঞ্চলের ইউজাররা জানতে পারবেন তার কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন আছে কিনা। নিকটবর্তী সুবিধাজনক স্থানে তাকে পরীক্ষার তথ্য দেয়া হবে।
ভেরিলি কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাথমিক পর্যায়ে এখনও এই সাইটের উন্নয়নের কাজ চলছে, যা সময়ের সঙ্গে আরও বিস্তৃত করা হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও জানান, ১৬ মার্চ থেকে উপকূলীয় এলাকায় করোনাভাইরাস স্ক্রিনিংয়ের পাইলট প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হবে, যা সরকারি-বেসরকারি যৌথ ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে।
বাজারে হুমড়ি খেয়েছে ক্রেতারা, দাম বাড়ছে নিত্য পণ্যের

বাজারে হুমড়ি খেয়েছে ক্রেতারা, দাম বাড়ছে নিত্য পণ্যের

  • হারুন আনসারী, ফরিদপুর
  •  
  • ২০ মার্চ ২০২০
  • বাজারে হুমড়ি খেয়েছে ক্রেতারা, দাম বাড়ছে নিত্য পণ্যের 
    ফরিদপুরে এখনো পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্বব্যাপী প্রাদূর্ভাবের পর দেশব্যাপীও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর ঝুঁকি বাড়তে থাকায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গুজবেও আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।
    এরই মাঝে আতঙ্কিত মানুষ ঘরে নিত্য পণ্যের মজুদ গরে তুলতে বাজারে কেনাকাটার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। এই সুযোগে দ্রব্যমূল্যের দামও বেড়ে যাচ্ছে হু’হু করে। আজ শুক্রবার ফরিদপুরের জেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার বাজারেও মানুষদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য প্রয়োজনের অধিক কিনতে দেখা গেছে। সংকটকালীন সময়ের জন্য মজুদ গড়ে তুলতেই তাদের এ প্রবণতা। গত বুধবার সন্ধা হতে এ প্রবণতা শুরু হয়। আর বৃহস্পতিবার সন্ধায় তা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দেখে বাজারের এক ব্যবসায়ী মন্তব্য করেন, যেনো চাঁদ রাত (ঈদের আগের রাত) পরেছে শহরে।
    Ad by Valueimpression
    ফরিদপুরের চকবাজার ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন জনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা হতে বাজারে নিত্য পণ্যের দোকানগুলোতে ঈদের আগের রাতের মতো ভিড় জমে যায়। মানুষ চাল,ডাল, আটা, চিনি, সাবান সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র কেনার জন্য লাইনে দাড়িয়ে যায়। মাছ, মাংশের দামও বেড়ে গেছে।
    একই অবস্থা দেখা যায় শহরের হাজি শরিয়তুল্লাহ বাজার, টেপাখোলা বাজার সহ বিভিন্ন বাজারেও। কাঁচামালের দামও এক লাফে দ্বীগুন হয়ে যায়। এ প্রেক্ষিতে মাত্র এক রাতের ব্যবধানে শুক্রবার সকালে ৩০ টাকার পেঁয়াজের দাম বেড়ে দাড়ায় ৬৫ টাকা কেজি দরে।
    বাজারে চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি গড়ে ৫ টাকা দরে। বস্তা প্রতি ৩শ’ টাকা বেড়ে গেছে এ দাম। শুধু জেলা শহর নয়, উপজেলা পর্যায়েও একই দশা। নিত্যপণ্যের দামের পাশাপাশি বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক পণ্যের দামও বেড়ে যাচ্ছে। মোবাইল ও কম্পিউটারের বিভিন্ন পার্টস সারাতে এখন এসব পণ্য কিনতে হচ্ছে দ্বীগুনেরও বেশি দামে।
    এ প্রেক্ষিতে ফরিদপুরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। তা তা অপ্রতুল। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সোহেল মেখ ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সৈয়দ জাকির হোসেন শহরে অভিযান পরিচালনা করে মেসার্স রামকৃষ্ণ ভান্ডারের বিমল সাহজাকে ১৫ হাজার টাকা বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের হাফিজুর রহমানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। চালের দা বেশি নেয়ায় তাদের এ জরিমানা করা হয়। নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক বজলুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তবে ভ্রাম্যমান আদালতের এ অভিযানের পরেও দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক হয়নি বলে ক্রেতারা জানিয়েছেন। তবে ব্যবসায়ীদের মতামত হচ্ছে, ক্রেতাদের এমন ভিড় দেখে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যের দাম কিছুটা বেশি রাখছেন।

    ফরিদপুরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলছেন, মানুষ আতঙ্কিত হয়ে এসব পণ্যের মজুদ গড়ছে। আই এই সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ নেবে এটিই স্বাভাবিক। আর পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।
    বাজারে এসব নিত্যপণ্যের দামের পাশাপাশি মাস্ক, গ্লোভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজারেরও দাম বেড়েছে। এসব পণ্যের সংকট বিরাজ করায় ক্রেতারা উচ্চ মূল্যেই সেসব কিনছে।
    ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সকলকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক রয়েছে। বাজারে কোন পণ্যের ঘাটতি হয়নি। কেউ অতি উৎসাহী হয়ে পরিস্থিতি খারাপ করবেন না। বাজার পরিদর্শনে কাউকে অনিয়ম বা অন্যায়ের সাথে জড়িত থাকতে দেখলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
    এদিকে, করোনা ভাইরাস ও উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার বেলা ১২ টার দিকে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জানা গেছে, শুক্রবার পর্যন্ত জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৫শতাধিক বিদেশ ফেরতকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
    এছাড়া নগরকান্দা উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় চরযশোরদী ইউনিয়নের শ্রীবরদি গ্রামের আজিজুল ইসলাম (৪০) কে ১০ হাজার টাকা ও ফুলসূতি ইউনিয়নের হিয়াবলদী গ্রামের মজিবর রহমানে (৩৭) কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
    করোনায় ইরানে প্রতি ১০ মিনিটে একজনের মৃত্যু

    করোনায় ইরানে প্রতি ১০ মিনিটে একজনের মৃত্যু

    অনলাইন ডেস্ক | ২০ মার্চ, ২০২০ 

    Thursday, March 19, 2020

    কাহালুতে হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় বিদেশ ফেরতের জরিমানা

    কাহালুতে হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় বিদেশ ফেরতের জরিমানা

    কাহালুতে হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় বিদেশ ফেরতের জরিমানা

    করোনা মোকাবেলায় সরকারি নির্দেশ মোতাবেক বগুড়ার কাহালু উপজেলায় বিদেশ ফেরতদের উপর বিশেষ নজরদারি রাখছেন উপজেলা প্রশাসন।এদিকে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় কাহালু সদর ইউনিয়নের খাজলাল গ্রামের বিদেশ ফেরত অজামিল চন্দ্রকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাছুদুর রহমান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাহালু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ মুহাম্মদ যাকারিয়া রানা ও কাহালু থানার পুলিশ সদস্যবৃন্দ।
    অজামিল চন্দ্র গত ১৭ মার্চ ভারত থেকে দেশে ফিরে সরকারি আদেশ অমান্য করে হোম কোয়ারেন্টাইনে না থেকে অবাধে বাইরে ঘোরাফেরা করা শুরু করেন। এ জন্য তাকে ভ্রাম্যমাণ আদাল এ জরিমানা করেন।
    কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাছুদুর রহমান বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের সঙ্গে সঙ্গে তথ্য দেওয়ার জন্য জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রতি আহবান জানান। তথ্য দেওয়ার জন্য
    উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোবাইল নম্বর ০১৭৩৩৩৩৫৪৪১,
    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ০১৭২০০১৭৩৮৫।
    বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আরো ১০ থেকে ১৫ গুণ ভয়ঙ্কর হবে: মার্কিন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ।

    বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আরো ১০ থেকে ১৫ গুণ ভয়ঙ্কর হবে: মার্কিন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ।

    বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আরো ১০ থেকে ১৫ গুণ ভয়ঙ্কর হবে: মার্কিন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ।





    করোনা ভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়ে দিনদিন মৃ’তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে মৃ’ত্যু হয়েছে ৩ হাজার ২৮৫ জনের। বিভিন্ন দেশে দেড় লক্ষ মানুষ এ ভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৩ হাজার ৬৮৮ জন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আ’ক্রান্ত তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
    এমতাবস্তায়, মা’র্কিন সংক্রমক রোগ বিশেষজ্ঞ মাইকেল অস্টারহোম বলেন,‘এটা তো কেবল শুরু। আঘাত, ব্যাথা, দুর্ভোগ, সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যার কথা বিবেচনা করলে বোঝা যায় যে, এটা কেবল আসলেই শুরু। এই অবস্থা সামনের মাসগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। আর মানুষও আক্রান্ত হতেই থাকবে।’
    তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সবচেয়ে মারাত্মক সিজনাল ফ্লু’র তুলনায় করোনাভাইরাস আরো ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশি ভয়ঙ্কর হতে পারে। করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার যেভাবে মানুষ সুরক্ষিত থাকার পরামর্শ দিচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে না যে- এসব পরামর্শ মেনে চললে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক ও হাত মোজা ব্যবহারের বিষয়টিকে ‘বোকামি’ (ননসেন্স) বলেও মত দেন তিনি।

    Tuesday, March 17, 2020

     জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষার সময়সূচী ২০১৯

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষার সময়সূচী ২০১৯


     জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষার সময়সূচী ২০১৯

    ষষ্ঠ শ্রেণিতে ফেল করা ছেলেটাই গড়ে তুলেছে ৪০০ কোটি টাকার ব্যবসা!

    ষষ্ঠ শ্রেণিতে ফেল করা ছেলেটাই গড়ে তুলেছে ৪০০ কোটি টাকার ব্যবসা!

    ষষ্ঠ শ্রেণিতে ফেল করা ছেলেটাই গড়ে তুলেছে ৪০০ কোটি টাকার ব্যবসা!

    বোর্ডের পরীক্ষা চলছে ভারতজুড়ে। কারও খুব ভাল পরীক্ষা হচ্ছে, তো কেউ আবার পরীক্ষা হল থেকে বেরিয়েই কাঁচুমাচু মুখ নিয়ে বাড়ি ফিরছে। আর সবচেয়ে ভয়ানক অবস্থা হবে ফলাফল প্রকাশের দিন। কারও বাড়ি মিষ্টির প্যাকেটে ভরে যাবে, আর কেউ খারাপ ফলাফলের জন্য হয়তো হতাশায় ডুবে যাবেন। কিন্তু একটা পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া মানেই জীবনে ব্যর্থ হওয়া নয়। আমাদের চারপাশেই এমন অনেকে রয়েছেন, যারা স্কুলের পরীক্ষায় একেবারেই ভাল ফল করে উঠতে পারেননি, কিন্তু আজ তারাই জীবনে প্রকৃত সাফল্য অর্জন করেছেন। ক্লাসে প্রথম হওয়া সেই সহপাঠীকেও অনেক পেছনে ফেলে এসেছেন।
    এমন একজন হলেন ভারতীয় যুবক পিসি মোস্তফা। যিনি ভীষণ সাধারণ মানের পড়ুয়া ছিলেন স্কুলে। নিজের ইচ্ছাশক্তির জোরে এবং আত্মবিশ্বাসের উপর ভর করে আজ তাকে সারা দেশ চেনে।
    কেরালার ওয়ানাডের এক প্রত্যন্ত এলাকায় তার জন্ম। পরিবারের কেউই পড়াশোনা করেননি।
    মোস্তাফাই পরিবারের প্রথম সন্তান যিনি স্কুলে ভর্তি হন। তবে দারিদ্র এবং সঠিক পরিবেশের অভাব তার পড়াশোনায় প্রথম থেকেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
    ষষ্ঠ শ্রেণিতেই ফেল করে বসেন। তার পরিবারের যা অবস্থা ছিল, তাতে ফেল করা মানেই ভবিতব্য ছিল বাবা কোনো না কোনো কাজে তাকে লাগিয়ে দেবেন। তেমনটাই হয়েছিল। একটা ছোট কারখানায় দিনমজুরের কাজে লাগিয়ে দেন বাবা। সেই ছোট বয়সেই নিজের ভবিষ্যত্টা দেখে নিয়েছিলেন মোস্তাফা।
    পড়াশোনা ছাড়া যে একটা ভাল জীবন পাওয়া কোনো ভাবেই সম্ভব নয়, তা বেশ বুঝতে পেরেছিলেন। কিছু দিন কাজ করার পরই তিনি নিজেকে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়ার মনোস্থির করেন। না, এবার আর থেমে থাকেননি। খুব মন দিয়ে পড়াশোনা করতে শুরু করেন।
    স্কুল পাশ করে কালিকটের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে ফেলেন। প্রথমে বেঙ্গালুরুর মোটোরোলা কোম্পানিতে কাজ পান তিনি। তারপর সেখান থেকে প্রমোশন পেয়ে ব্রিটেনে চলে যান কয়েক বছরের জন্য।
    জীবনটা গুছিয়ে ফেলেছিলেন মোস্তাফা। বর্তমানও ঝকঝকে করে ফেলেছিলেন কঠোর পরিশ্রমে। কিন্তু তাতেও মন মানছিল না তার। কোনো ভাবে এটাকেই জীবনের সাফল্য ভেবে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারছিলেন না। তার উপর দেশের প্রতি টানটাও ভুলতে পারছিলেন না। আর বিদেশি খাবারও মুখে সই ছিল না।
    কয়েক বছর পর বিদেশের পাঠ চুকিয়ে দেশে ফিরে আসেন মোস্তাফা। বেঙ্গালুরু থেকে এমবিএ করেন। তখনই নিজের ব্যবসা শুরু করার কথা মাথায় আসে তার। বেঙ্গালুরুর থিপাসানদ্রাতে তার আত্মীয়দের একটি দোকান ছিল। মাঝে মধ্যেই সেখানে বসে গল্পগুজবে কাটিয়ে দিতেন।
    খুব অবাক হয়ে দেখতেন, প্রতিদিনই ইডলি এবং দোসার ব্যাটার মহিলারা দোকান থেকে কিনে নিয়ে যান। ইডলি-দোসার এই ব্যাটারের চাহিদাও প্রচুর। সে যত খারাপ মানেরই হোক না কেন, দোকানে রোজ শেষ হয়ে যেত সেগুলো। তা থেকেই প্যাকেজড ফুড ব্যবসার কথা মাথায় আসে তার।
    প্রথমে মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। খুড়তুতো ভাইদের সঙ্গে মিলে ইডলি-দোসা বানানোর ব্যাটার তৈরির ব্যবসা শুরু করে দেন। একটা ছোট দোকান নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন প্রথমে। কিছু ব্যাটার বানিয়ে আশেপাশের মহিলাদের মধ্যে প্যাকেট করে বিতরণ করেন।
    প্রথমে চালের গুঁড়া কিনে ব্যাটার বানাতে শুরু করেন। রাতারাতি হিট হয়ে যায় পরিকল্পনা। প্রথমে ব্যাটার খুব একটা ভাল না বানাতে পারলেও, যত দিন যায় আদর্শ ব্যাটার বানাতে শুরু করেন তারা।
    ২০০৮ সালে তারা ৫০ বর্গ ফুটের একটা ছোট রান্নাঘর ভাড়া নেন তিনি। সঙ্গে কেনেন একটা গ্রাইন্ডার। স্কুটারে করে ব্যাটারগুলো বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে শুরু করেন তারা। একটু জনপ্রিয় হলে কোম্পানির নাম দেন বেস্ট ফুড প্রাইভেট লিমিটেড। পরে নাম বদলে রাখেন আইডি স্পেশাল ফুডস প্রাইভেট লিমিটেড।
    ২০১০ সাল নাগাদ তাদের ব্যবসা ৪ কোটি ছুঁয়ে ফেলে। ততদিনে ৪০ জন কর্মচারীও নিয়োগ করে ফেলেছেন মোস্তাফা। যদিও তখনও শুধুমাত্র বেঙ্গালুরুতেই এই ব্যাটার সরবরাহ করতেন তিনি।
    এখন ৫০ কেজি ব্যাটার সরবরাহ করে তার কোম্পানি। সঙ্গে যোগ হয়েছে ৪০ হাজার চাপাটি, দু’লাখ পরোটা, দু’হাজার টমেটো এবং ধনেপাতার চাটনির প্যাকেট।
    এই মুহূর্তে আটটি শহরে পৌঁছে গিয়েছে তার কোম্পানি। দেশে বেঙ্গালুরু, মাইসুরু, ম্যাঙ্গালুরু, চেন্নাই, মুম্বাই, হায়দরাবাদ, পুণে এবং বিদেশে শারজাতেও রয়েছে তার সংস্থা। ডেলিভারির জন্য কোম্পানির নিজস্ব ২০০টা গাড়ি রয়েছে। কর্মচারীর সংখ্যা ৬৫০।
    আর এখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে ফেল করা সেই ছেলেটার ব্যবসা কোথায় পৌঁছে গিয়েছে? ২০১৯-২০ সালে কোম্পানি ৩৫০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা টার্নওভার আশা করছে।
    জয়পুরহাটের কৃষকরা বোরোর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন

    জয়পুরহাটের কৃষকরা বোরোর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন

    জয়পুরহাটের কৃষকরা বোরোর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন

    নাসিম  আহমেদ  ,জয়পুরহাট 

    খাদ্যে উদ্বৃত্ত জেলা জয়পুরহাটে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চলতি ২০১৯-২০ রবি ফসল উৎপাদন মৌসুমে বোরো চাষে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করে। রোপা আমন ও আলুর বাম্পার ফলনের পর জেলার কৃষকরা এখন বোরো ধানের পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
    স্থানিয় কৃষি বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে চলতি ২০১৯-২০ রবি ফসল চাষ মৌসুমে জেলায় ৭২ হাজার ২ শ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ৬২ হাজার ৮ শ হেক্টর ও হাইব্রিড জাতের রয়েছে ৯ হাজার ৪ শ হেক্টর জমি।
    এতে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৯ শ ৯ মে.টন। ২০১৮-২০১৯ মৌসুমে জেলায় ৬৯ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছিল এবং এতে উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৫ মে. টন চাল। যা জেলার খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য স্থানে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন হয়েছিল ৪ দশমিক ৬৩ মে.টন চাল।
    জেলায় বোরো চাষ সফল করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগ ইতোমধ্যে মার্চ মাসের সারের বরাদ্দ পেয়েছে । যার মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া ৫ হাজার ২১৩ মে. টন, টিএসপি ১ হাজার ৩১৩ মে. টন, এমওপি ১ হাজার ৫শ ৮৩ মে. টন ও ডিএপি ১ হাজার ২ শ ৪৬ মে. টন। বোরো চাষে সেচ সুবিধা প্রদানের জন্য ১ হাজার ৯৫৫ টি গভীর ও ৮ হাজার ৫৯৮টি অগভীর নলকূপ চালু করা হয়েছে।
    কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বোরো বীজ সরবরাহ করেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন। নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্রসহ জেলার ১ শ ১৪ জন বীজ ডিলারের মাধ্যম ওই বীজ বিক্রি করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে বোরো চাষ সফল করতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শ. ম মেফতাহুল বারী।
    শুভ জন্মদিন, বাঙ্গালী জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান

    শুভ জন্মদিন, বাঙ্গালী জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান

    নাসিম আহমেদ , প্রতিনিধি জয়পুরহাট 
     প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২০  
    সেদিন ছিল ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ, মঙ্গলবার। রাত ৮টার দিকে মা সায়েরা খাতুনের কোল আলোকিত করে আসেন ইতিহাসের মহানায়ক; বাঙালি ও বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজ বাংলার সেই অবিসংবাদিত নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবুর রহমানের ‘জন্মশতবার্ষিকী’।
    ইতিহাসের খরস্রোতায় ১৯২০ সালের সেদিনের মতো শত বছর পর আজকের দিনটিও মঙ্গলবার। দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে বর্ণিল আলোকসজ্জা, আতশবাজি আর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘বিশ্ববন্ধুর’ জন্মদিন উদযাপন করবে পুরো জাতি।
    আজ বাঙালি জাতির আনন্দে পুলকিত হওয়ার দিন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির জন্মদিনে দেশের ১৬ কোটি মানুষ বিনম্র শ্রদ্ধা, সালাম আর হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা জানাতে উদগ্রীব। আজ থেকে শুরু হচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘মুজিববর্ষ’। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে শুরু হয়েছিল ক্ষণগণনা। গণনা শেষে আজ রাত ৮টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উদ্বোধন করা হবে জাতির পিতার ‘জন্মশতবার্ষিকী’। অনুষ্ঠানটি দেশের সব গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সম্প্রচার করা হবে। শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হবে। এরপর জাতির উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাণী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ, বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানার অনুভূতি প্রকাশ ও তার লেখা কবিতা প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে পাঠ, বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা প্রধানদের ভিডিওবার্তা প্রচার করা হবে।
    বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনটি জাতীয় শিশু দিবস বিধায় শত শিশুর কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত ও দলীয় সঙ্গীতের পরিবেশনা থাকবে। শত শিল্পীর পরিবেশনায় যন্ত্রসঙ্গীত, মুজিববর্ষের থিম সং, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মকে তুলে ধরে একটি থিয়েট্রিকাল পারফরম্যান্স ও বিশ্বখ্যাত কোরিওগ্রাফার আকরাম খানের পরিবেশনা থাকছে প্রোগ্রামে।
    প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে পিক্সেল ম্যাপিংয়ের লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হবে। সারা দেশেও আলোকসজ্জা, আতশবাজি আর বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বছরব্যাপী ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল।
    কিন্তু ‘করোনাভাইরাস’ বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারণ করায় এ সংক্রান্ত সব কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে- জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে দেড় লাখ মানুষ নিয়ে মুজিববর্ষের বর্ণিল উদ্বোধনী আয়োজন, টুঙ্গিপাড়ার শিশুমেলা ও আলোচনা সভা। জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিশ্বনেতাদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তাও বাতিল করা হয়েছে।
    এছাড়া সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে ঘোষিত যেসব কর্মসূচিতে লোকসমাগম হবে এমন অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে আজ সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা চিঠি পাঠের অনুষ্ঠানও ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। আজ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
    এছাড়া বড় আকারে আনন্দ আয়োজন, সেবা ও উন্নয়নের বিষয়গুলো, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা, বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন, গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণ, বাংলা ও ইংরেজিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জন্মশতবার্ষিকী স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের মতো কর্মসূচিগুলো সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
    তদানীন্তন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেয়া শেখ মুজিবুর রহমানের বাবা শেখ লুৎফর রহমান ও মা সায়েরা খাতুন। তাদের চার মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তৃতীয়।
    দিবসটি উপলক্ষে আজ সব সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে থাকছে নানা আয়োজন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
    সকাল ১০টায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া যাবেন। সেখানে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান এ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তারা।
    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০-২১ সালকে মুজিববর্ষ ঘোষণা করে সরকার। মুজিববর্ষ ঘিরে এরই মধ্যে মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
    জাঁকজমকপূর্ণভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদযাপনে দুটি কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ১০২ সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি।’ অপরটি ৬১ সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি।’ কমিটি দুটি বছরব্যাপী কর্মসূচি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে কাজ করবে।
    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টুঙ্গিপাড়ার চিরায়ত গ্রামীণ সমাজের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আবেগ-অনুভূতি শিশুকাল থেকে গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন। গ্রামের মাটি আর মানুষ তাকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করত। শৈশব থেকে তৎকালীন সমাজজীবনে তিনি জমিদার, তালুকদার ও মহাজনদের অত্যাচার, শোষণ ও প্রজা পীড়ন দেখে চরমভাবে ব্যথিত হতেন। গ্রামের হিন্দু, মুসলমানদের সম্মিলিত সম্প্রীতির সামাজিক আবহে তিনি দীক্ষা পান অসাম্প্রদায়িক চেতনার।
    শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতা, যিনি পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা। জনসাধারণের কাছে তিনি ‘শেখ মুজিব’ ও ‘শেখ সাহেব’ হিসেবে বেশি পরিচিত এবং তার উপাধি ‘বঙ্গবন্ধু’।
    শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি ও বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে কালজয়ী নাম। বিশ্ববাঙালির গর্ব- মৃত্যুঞ্জয়ী মহামানব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালি জাতির জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।
    তিনি বাংলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ছুটে বেড়িয়ে বাঙালির কাছে পৌঁছে দেন পরাধীনতার শিকল ভাঙার মন্ত্র। সে মন্ত্রে বলীয়ান হয়ে স্বাধীন দেশে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ আজ বিশ্বে রোল মডেল। তার সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে চলেছে।
    সেদিনের টুঙ্গিপাড়ার অজপাড়াগাঁয় জন্ম নেয়া ‘খোকা’ ডাকনামের সেই শিশুটি পরবর্তী সময়ে হয়ে ওঠেন নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালি জাতির মুক্তির দিশারি। গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, আত্মত্যাগ ও জনগণের প্রতি অসাধারণ মমত্ববোধের কারণেই পরিণত বয়সে হয়ে ওঠেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু।
    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে- সমাজ ও রাজনীতি ‘নেতা’ বা ‘নায়ক’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে নিতে পারেন অনেকেই। মাঝে মাঝে অসাধারণ ক্যারিশমাসম্পন্নরা ‘বড় নেতা’ অথবা ‘মহানায়কের’ আখ্যায়ও ভূষিত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। তবে তারা প্রায় সবাই সমসাময়িক কালের নেতা, চলতি পারিপার্শ্বিকতার প্রেক্ষাপটের নায়ক।
    কিন্তু ‘ইতিহাসের নায়ক’ হওয়ার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ সব কালে, সব যুগে সৃষ্টি হয় না। যুগ-যুগান্তরের পরিক্রমায় হাতেগোনা এক-আধজনই শুধু ‘ইতিহাসের নায়ক’ হয়ে উঠতে পারেন। ইতিহাস তার আপন তাগিদেই ‘নায়কের’ উদ্ভব ঘটায়, আর সেই ‘নায়ক’ই হয়ে ওঠেন ইতিহাস রচনার প্রধান কারিগর ও স্থপতি। বঙ্গবন্ধু ছিলেন তেমনই একজন কালজয়ী পুরুষ।
    কিশোর বয়সেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কৈশোরে তার রাজনীতির দীক্ষাগুরু ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ম্যাট্রিকুলেশন পাসের পর কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরেবাংলা একে ফজলুল হকসহ তৎকালীন প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাদের সান্নিধ্যে আসেন।
    ওই সময় থেকেই নিজেকে ছাত্র-যুবনেতা হিসেবে রাজনীতির অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেন, যোগ দেন আওয়ামী মুসলিম লীগে, যা পরে অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে আওয়ামী লীগ নাম নেয়।
    গোপালগঞ্জের মিশন স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে শেখ মুজিব প্রথমবারের মতো গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন। এরপর শুরু হয় তার আজীবন সংগ্রামীর অভিযাত্রা। তিনি তার ব্যক্তিজীবনের এক-চতুর্থাংশ সময় (১২ বছর ১০ মাস) কারাগারে বন্দি ছিলেন।
    ইতিহাসের পাতায় পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পরপরই ঢাকায় ফিরে নতুন রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা নিয়ে ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ গঠন করেন শেখ মুজিবুর রহমান।
    ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৮-এর আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ঐতিহাসিক ৬ দফা, স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারারুদ্ধ হন তিনি।
    বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ষাটের দশকে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন বাঙালির অদ্বিতীয় নেতা। ১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতা তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়। ১৯৭০-এর নির্বাচনে বাঙালি বঙ্গবন্ধুর ৬ দফার পক্ষে জানায় অকুণ্ঠ সমর্থন।
    ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে শেখ মুজিব বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের প্রতিটি অধ্যায়ে বঙ্গবন্ধুর নাম চিরভাস্বর। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে তার ঐতিহাসিক ভাষণ- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’কে ইউনেস্কো বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে।
    এরপর তাকে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় বঙ্গবন্ধুকে সেখানে কারাবন্দি করে রাখা হয়। সে সময় প্রহসনের বিচার করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার উদ্যোগও নেয় পাকিস্তানি শাসকরা। যদিও পরে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে তা সম্ভব হয়নি। ১৯৭১ সালের ৮ মার্চ পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে আসেন। এরপর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গঠনে মনোনিবেশ করেন।
    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে বিশ্বাসঘাতকদের নির্মম বুলেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। ১৫ আগস্টের কালরাতে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। বঙ্গবন্ধুর বড় কন্যা শেখ হাসিনা বর্তমানে দেশের সফল প্রধানমন্ত্রী।
    বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী খুনি স্বৈরশাসকরা স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানি ভাবধারার বিকৃত ইতিহাস ও মূল্যবোধের বিস্তার ঘটানোর পাঁয়তারা চালায়। খুনিরা ইতিহাসের পাতা থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
    বঙ্গবন্ধু হত্যার পর স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক-স্বৈরাচার তিন দশক ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ভুল ইতিহাস শেখানোর অপচেষ্টা চালায়। খুনিরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে তার চেতনা ও আদর্শকে মুছে ফেলতে পারেনি। তিনি ছিলেন বিশ্বের নির্যাতিত, নিপীড়িত ও শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির দূত- স্বাধীনতা ও শান্তির প্রতীক।
    বাংলা ও বাঙালি যত দিন থাকবে, এ পৃথিবী যত দিন থাকবে, পৃথিবীর ইতিহাস যত দিন থাকবে তিনি একইভাবে প্রোজ্জ্বলিত হবেন প্রতিটি বাঙালি হৃদয়ে, প্রতিটি মুক্তিকামী, শান্তিকামী, মানবতাবাদীর হৃদয়ে। বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শন চিরকাল বাঙালি জাতিকে অনুপ্রাণিত করবে- পথ দেখাবে। বাঙালি জাতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় বাংলাদেশের ইতিহাস বিনির্মাণের কালজয়ী এ মহাপুরুষকে চিরকাল স্মরণ করবে।
    বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং সারা দেশে সংগঠনের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন।
    সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। এছাড়া দিনটিতে টুঙ্গিপাড়ার কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের প্রতিনিধি দল টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন। পরে তারা সেখানে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ করবেন।
    এছাড়া দেশব্যাপী মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণের কর্মসূচি আছে আওয়ামী লীগের। এছাড়া রাত ৮টায় সারা দেশে একযোগে আতশবাজি প্রদর্শনী ও ফানুস উড়ানো।
    আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ধানমণ্ডি-৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে, ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ধানমণ্ডির রবীন্দ্রসরোবর, হাতিরঝিল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় আতশবাজি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে আলোকসজ্জা করা হবে।