Wednesday, September 25, 2019

প্রশাসনেও আসছে ‘শুদ্ধি’ অভিযান

প্রশাসনেও আসছে ‘শুদ্ধি’ অভিযান

   প্রশাসনেও আসছে ‘শুদ্ধি’ অভিযান

 

নিজস্ব প্রতিবেদক


বিভিন্ন ক্ষেত্রে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে সরকার। টেন্ডারবাজি, জুয়া, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ক্ষমতাসীন দলের নেতারা গ্রেফতার হচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই শুদ্ধি অভিযান আরও বিস্তৃত হবে।
সরকারের চলমান শুদ্ধি অভিযান জনপ্রশাসনেও আসছে, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা।


Tuesday, September 17, 2019

নকল বিদেশি ওষুধ : দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ৪০ লাখ টাকা

নকল বিদেশি ওষুধ : দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ৪০ লাখ টাকা

নকল বিদেশি ওষুধ : দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ৪০ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
joypurhat online news 24.com 

বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ নকল, উৎপাদন ও বাজারজাত করায় রাজধানীর হাতিরপুলে সিলভেন ট্রেডিং এবং টোটাল ফার্মা নামক দুটি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সহযোগিতায় মঙ্গলবার দুপুর এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।
এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম জাগো নিউজকে বলেন, বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ নকল ও অনুমোদন ছাড়া বাজারজাত করা আইনত অপরাধ। কিন্তু সিলভেন ট্রেডিং এবং টোটাল ফার্মা সেই অবৈধ কাজটিই করে আসছিল। প্রতিষ্ঠান দুটি মিডফোর্ডে অবৈধভাবে বিদেশি ওষুধ নকল করে নিয়ে আসে। এরপর হাতিরপুলে নিজস্ব কার্যালয়ে প্যাকেজিং ও মোড়কজাত করে আসছিল।
জব্দকৃত ওষুধের মধ্যে রয়েছে থাইল্যান্ডের ওষুধ প্রফিমিয়া, আমেরিকার ট্যাবলেট বিসতা, ম্যাক্স ডি, ক্যাপসুল ভিটাল-ই প্লাস, ইস্তাম্বুলের ক্রিম বেটাসেলিক, ইলোকন, ডিফরিন ও হংকং এর শ্যাম্পুসহ ১৪ রকমের পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের ওষুধ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ওষুধের মধ্যে কোনোটার লেভেল ছিল না। কোনটির আবার শুধু লেভেল ছিল।
ধানমন্ডি এলিফেন্ট রোডের ১৮৫ রোজ ডিউ প্লাজাস্থ সিলভেন ট্রেডিং কোং এর মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা এবং কর্মচারী মো. নুরুল ইসলামকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে একই ভবনের টোটাল ফার্মা ও টোটাল হারবাল অ্যান্ড নিউট্রাসিউটিক্যাল এর মালিক এসএম হোসেন এবং ম্যানেজার এডমিন রফিকুল ইসলাম ভূইয়াকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই অভিযোগে অনুপস্থিত এরিস্টোক্রাট কেয়ারের মালিক মো. গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সারওয়ার আলম বলেন, বিদেশি ব্র্যান্ডের ওষুধ হিসেবে বাজারে বিক্রি করলেও ওইসব নকল ওষুধের নেই কোনো গুণগত মান। ভোক্তারা এই ধরনের প্রতারণামূলক ওষুধ ক্রয়ে প্রতারিত হচ্ছেন। অসুস্থদের চিকিৎসায় কোনো কাজে আসছে না।
রাখাইনে ৬ লাখ রোহিঙ্গা গণহত্যার চরম ঝুঁকিতে : জাতিসংঘ

রাখাইনে ৬ লাখ রোহিঙ্গা গণহত্যার চরম ঝুঁকিতে : জাতিসংঘ

রাখাইনে ৬ লাখ রোহিঙ্গা গণহত্যার চরম ঝুঁকিতে : জাতিসংঘ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে এখনো ছয় লাখের মতো রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যার চরম ঝুঁকিতে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির তদন্তকারী একটি মিশন গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদনে তাদের এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের তদন্তকারী দল বলছে, বর্তমানে মিয়ানমারের যে পরিস্থিতি, তাতে বিতাড়িত হওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনের বিষয়টি অসম্ভবই হয়ে আছে। জাতিসংঘের ওই ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন যে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তৈরি করেছে তা মঙ্গলবার জেনেভায় উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।
রোহিঙ্গা নিধন অভিযান নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল গত বছর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে ২০১৭ সালে রাখাইনে পরিচালিত দেশটির সেনাবাহিনীর নিধন অভিযানকে গণহত্যা বলে উল্লেখ করে সেনাপ্রধানসহ দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের বিচারের আহ্বান জানায়।
জাতিসংঘের ওই তিন সদস্যের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের চেয়ারম্যান মারজুকি দারুশম্যান গত বছরের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন। যেখানে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়।
মিশনের চেয়ারম্যান মারজুকি দারুশম্যান বলেন, রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর একই রকম অপরাধী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিধন অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। তারপর প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৭ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা।
মারজুকি দারুশম্যান বলেন, ‘আমরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা ও গণহত্যা চালানোর মতো সব অভিপ্রায়ের প্রমাণ পেয়েছি। যুগ যুগ ধরে তারা (মিয়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনী) পাশবিক এই অপরাধ করে এলেও তাদের কোনো বিচার হচ্ছে না।’
মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী হিসেবে স্থানীয় উগ্রপন্থী রাখাইন বৌদ্ধরা রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, নির্যাতন, তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশে এখন মোট রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি।

Tuesday, August 6, 2019

রাজধানীর প্রায় সমসংখ্যক ডেঙ্গু রোগী বিভাগীয় শহরেও!

রাজধানীর প্রায় সমসংখ্যক ডেঙ্গু রোগী বিভাগীয় শহরেও!

রাজধানীর প্রায় সমসংখ্যক ডেঙ্গু রোগী বিভাগীয় শহরেও!


মাত্র মাস কয়েক আগেও এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বর বলতে রাজধানীকেন্দ্রিক রোগ বলে মনে করা হতো। কিন্তু বর্তমানে এ রোগটি আর শহরকেন্দ্রিক নেই। রাজধানী ঢাকার বাইরে ঢাকা বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকার বাইরের হাসপাতালে প্রতিদিনই অসংখ্য ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের গত ৭ দিনের প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে প্রায় প্রতিদিনই ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
গত ৩০ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট (সোমবার) পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে যথাক্রমে ১০৪৭, ৯৬০, ১১৩১, ৯৫৮, ৯৯৫, ১০৫৩ ও ১১৫৯ জন।
একই সময়ে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে যথাক্রমে ৫৩৬, ৬১৮, ৫৯০, ৭০৭, ৬৮৬, ৮২১ ও ৯০৬ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৬৫ জন। মোট আক্রান্তের মধ্যে ঢাকা শহরে ১ হাজার ১৪৮ জন।
ঢাকা শহর ব্যতীত বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৯০৬ জন। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগে ২২১, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮০, খুলনা বিভাগে ১৫০, রংপুর বিভাগে ৪৭, রাজশাহী বিভাগে ১১২, বরিশাল বিভাগের ৯৯, সিলেট বিভাগে ৩৬ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৬১ জন রোগী ভর্তি হন।

Monday, July 15, 2019

joypurhatonlinenews24  পক্ষে থেকে জানাই অভিনন্দন সাইদুল  ইসলাম সাঈদ

joypurhatonlinenews24 পক্ষে থেকে জানাই অভিনন্দন সাইদুল ইসলাম সাঈদ

অভিনন্দন সাইদুল ইসলাম সাঈদ


joypurhatonlinenews24 পক্ষে থেকে জানাই অভিনন্দন সাইদুল ইসলাম সাঈদ ভাই নব নির্বাচিত সদস্য সচিব, বাংলাদেশ মানবিক ভলেন্টিয়ারস আক্কেলপুর উপজেলা আহবায়ক কমিটি
অভিনন্দন সাইদুল ইসলাম সাঈদ ভাই নব নির্বাচিত সদস্য সচিব, বাংলাদেশ মানবিক ভলেন্টিয়ারস আক্কেলপুর উপজেলা আহবায়ক কমিটি



Tuesday, July 9, 2019

গুজবে কান দিবেন না

গুজবে কান দিবেন না

                                                       গুজবে কান দিবেন না
                                                                                                         







কপি..www.facebook.com/Abdullahel Baki 

Sunday, May 26, 2019

 জয়পুরহাট জেলা

জয়পুরহাট জেলা

🎅আসসালামু_আলাইকুম🎅

#গ্রুপের সকল বন্ধুদের জানাই সুস্বাগতম। এটা আমার আপনার সকলের গ্রুপ,, এটাকে পরিপূর্ণ করার জন্য আপনার নিকট হয়তে সাহায্য আশা করি জয়পুরহাটের দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের ক্ষেত,হাওড়-বাওড় ও নদ-নদী
বিধৌত প্রকৃতিক এক অনন্য লীলাভূমি আমাদের জয়পুরহাট জেলা,
মধুমতির কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে এ জেলা।সংস্কৃতি তথা বাংলাদেশ কে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা।পাশা-পাশি শিক্ষা,জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রসার ও পরিচ্ছন্ন বিনোদনের জন্য একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরী করা।যেখানে আপনাদের দেয়া সুন্দর পোষ্ট গুলো সবার জ্ঞান অর্জন ও নির্দোষ বিনোদন লাভের জন্যসহায়ক হবে।আমরা এখানে সবাই বন্ধু ও ভাই-বোনের মতো।একটা পরিবার মতো,একটা পরিবারে থাকলে যেমন বড়দের সম্মান ছোটদের স্নেহ করেন এবং প্রতিটি কথায়-কাজে ভালো মানুষের পরিচয় দেন। তেমনি এখানে ও তেমন পরিবেশ রাখবেন বলে আন্তরিক ভাবে আশা করছি।
আমাদের এই গ্রুপের যে কোনো ধরণে আপনি পোষ্ট করতে পারবেন।
বিভিন্ন যায়গা ফোটোগ্রাফী,গল্প,কবিতা, ভালোবাসার কথা,আনন্দন,বিনোদন পোষ্ট করুন এবং লাইক কমেন্ট করুন ।
#এখানে কোনো রূপ খারাপ ফোটো বা ভিডিও পোষ্ট করা চলবে না ।।এখানে এমন কিছু পোষ্ট করবেন যাতে আমরা অনুমতি দিতে বাধ্য।।
#আপনাদের যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে এডমিন কে মেনশন দিন,, নিজেদের মধ্যে বিবাদ করবেন না অসুবিধা হলে আমাদের বলুন।।। কেউ যদি ফাজলামো করেন বা রুল্স মেনে না চললে আমরা তাকে ব্লক করতে বাধ্য হব।।
#আপনাদের নিকট হয়তে এটুকু আশাবাদী
🌹Thank you🌹
#Admin:(1) নাসিম আহমেদ আদিব (2) MD Rony Shakidar
(3)Masud Rana Riyad(4) Sohanur Rahman Saju
visit:https://www.facebook.com/groups/170726753761911/

Tuesday, April 23, 2019

পোশাক খাতের মজুরি বাড়েনি, বাস্তবে ২৬ শতাংশ কমেছে : টিআইবি

পোশাক খাতের মজুরি বাড়েনি, বাস্তবে ২৬ শতাংশ কমেছে : টিআইবি

তৈরি পোশাক খাতের মজুরি নিয়ে মালিক পক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়েছে। নতুন কাঠামোতে মজুরি বাড়েনি, উল্টো ২৬ শতাংশ কমেছে বলে দাবি করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীতে টিআইবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। ‘তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন : অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনের টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইন অনুযায়ী প্রতিবছর পাঁচ শতাংশ হরে মজুরি বাড়ানোর নিয়ম রয়েছে। এ হিসেবে মজুরি বাড়েনি, বাস্তবিক অর্থে সার্বিকভাবে ২৬ শতাংশ কমানো হয়েছে।
এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে টিআইবি জানায়, ২০১৩ সালের ঘোষিত মজুরি অনুযায়ী প্রথম গ্রেডে ছিল ৮ হাজার ৫০০ টাকা। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ঘোষিত প্রথম গ্রেডে নতুন মজুরি করা হয়েছে ১০ হাজার ৯৩৮ টাকা। কিন্তু ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টসহ ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে মজুরি হওয়ার কথা ছিল ১৩ হাজার ৩৪৩ টাকা। সেই হিসেবে মজুরি ২ হাজার ৪০৫ টাকা বা ২৮ শতাংশ কমেছে। এভাবে নতুন কাঠামোতে মজুরি সার্বিকভাবে ২৬ শতাংশ কমেছে।

TIB-2
গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সংস্থার সহকারী প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনা ও মো. মোস্তফা কামাল।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পোশাক খাতে অনেক অগ্রগতি হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়ে গেছে। শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়টি পর্যাপ্ত দৃষ্টি পাচ্ছে না। নূন্যতম মজুরি বৃদ্ধির মধ্যে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়ে গেছে। বাস্তবে মজুরি কমে গেছে বলে ধারণা করা হতো। আমাদের প্রতিবেদনেও তা ওঠে এসেছে। আগের তুলনায় ২৬ শতাংশ মজুরি কমে গেছে। সেটি তো বাড়েইনি বরং যারা আন্দোলন করেছে তাদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
ট্রেড ইউনিয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রে আইনি ও প্রায়োগিক দুর্বলতা রয়েছে। মাত্র ৩ শতাংশ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে। যার অধিকাংশই মালিকদের দ্বারা প্রভাবিত।
টিআইবি জানায়, পোশাক খাতে অধিকাংশ সাব কন্ট্রাক্টর নির্ভর কারখানায় নূন্যতম মজুরি দেয়া হয় না। এছাড়া নতুন মজুরি কাঠামোতে মালিকপক্ষের মূল মজুরির বৃদ্ধি ২৩ শতাংশ দাবি করা হলেও প্রকৃত হিসাবে ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে তা প্রায় ২৬ শতাংশ কম। মজুরি বৈষম্য নিয়ে আন্দোলন করায় ৫ হাজার শ্রমিককে আসামি করে ৩৫টি মামলা করা হয়েছে। ১৬৮টি কারখনায় ১০ হাজার শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

Friday, April 19, 2019

জয়পুরহাটে নদী বাঁচাতে মানববন্ধন-পথসমাবেশ

জয়পুরহাটে নদী বাঁচাতে মানববন্ধন-পথসমাবেশ

জয়পুরহাটে নদী বাঁচাতে মানববন্ধন-পথসমাবেশ
‘নদী বাঁচাও, জীবন বাঁচাও, দূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ো’—এ স্লোগানে জয়পুরহাটের প্রধান নদী-ছোট যমুনাসহ দেশের দখল হওয়া নদী দখল ও দূষণমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন ও পথসমাবেশ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে জয়পুরহাট শহরের জিরো পয়েন্টে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে পরিবেশবাদী যুব সংগঠন ‘গ্রিন ভয়েস জয়পুরহাট জেলা শাখা। মানববন্ধনে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। 
মানববন্ধন চলাকালে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—গ্রিন ভয়েস জয়পুরহাট জেলা শাখার আহ্বায়ক তারেক দেওয়ান, যুগ্ম আহ্বায়ক আরাফাত হোসেন, সদস্য খ ম আরাফ রহমান, এহসানুল হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা জয়পুরহাটের চারটি নদীসহ দেশের সব নদী দখলমুক্ত ও পুনঃখনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনাসহ বর্জ্য অপসারণ করে দূষণমুক্তকরণের দাবি জানান।

দ্বন্দ্ব-গ্রুপিং মিটিয়ে তৃণমূল আ.লীগকে শক্তিশালী করার নির্দেশ

দ্বন্দ্ব-গ্রুপিং মিটিয়ে তৃণমূল আ.লীগকে শক্তিশালী করার নির্দেশ

সাংগঠনিক বিরোধ নিরসনে আওয়ামী লীগের তৃণমূলকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দলের যৌথসভায় নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ যখনই বিপদে পড়েছে এ তৃণমূলই কিন্তু দলকে রক্ষা করেছে। সে কারণে যত দ্বন্দ্ব, সংঘাত বা গ্রুপিং থাকুক না কেন সব মিটিয়ে আওয়ামী লীগকে তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।শুক্রবার বিকেলে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের যৌথসভায় শেখ হাসিনা নেতাদের এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Wednesday, April 17, 2019

নড়বড়ে ব্যাংকিং খাত, ছাড়ে রক্ষার চেষ্টা

নড়বড়ে ব্যাংকিং খাত, ছাড়ে রক্ষার চেষ্টা

অনিয়ম, অব্যস্থাপনা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, পর্ষদের স্বেচ্ছাচারিতা ও ঋণ কেলেঙ্কারিতে নাজুক অবস্থায় পড়েছে দেশের ব্যাংকিং খাত। ফলে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। মূলধনও খেয়ে ফেলেছে অনেক ব্যাংক। উচ্চ সুদহার আর তারল্য সঙ্কটে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি তলানিতে। ফলে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গলার কাটা এখন ব্যাংক খাত। চলমান এ সমস্যা উত্তরণে নানা ফাঁক ফোঁকর খুঁজছে সরকার।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। নতুন সরকারের নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। মন্ত্রী হওয়ার পরই ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করতে কঠোর হুঁশিয়ারির পাশাপাশি সংস্কারের ঘোষণা দেন তিনি।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখোমুখি। উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ব্যাংক খাতই এখন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এ খাতের সমস্যা দূর করতে ব্যাংক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
সর্বশেষ ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সদর দফতরে বসন্তকালীন সভার প্রথম দিন তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। এ দুর্বলতা কাটাতে আমরা আইএমএফের সহযোগিতা চেয়েছি। তারা আমাদের ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
নতুন অর্থমন্ত্রী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পরিচালক ও ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে খেলাপির বিষয়ে শর্ত জুড়ে দেন। তিনি বলেন, বৈঠকে বসার আগেই আমার শর্ত ছিল একটা। কোনো কিছু আলাপ করার আগে আমার এক দফা। আজকের পর থেকে খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়তে পারবে না। এর পর তৎপরতা শুরু করে বেসরকরি ব্যাংকের চেয়ারম্যানরা। কীভাবে খেলাপি ঋণ কমানো যায়, তার কৌশল নির্ণয়ে ব্যাংক ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন পরিচালকরা। এদিকে সরকারের চাপে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও। নেয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। এছাড়া বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি কাঠামোগত সংস্কারের নানা উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে।
ব্যাংকিং খাত-সংক্রান্ত কমিটির সুপারিশে ঋণ খেলাপিদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে সরকার। অর্থমন্ত্রী বলছেন, ঋণখেলাপিদের ঋণ পরিশোধের অর্থাৎ ঋণখেলাপি থেকে বেরিয়ে আসার একটি সুযোগ করে দিচ্ছি। তবে এ সুযোগ অবশ্যই ‘ভালো’ ঋণখেলাপিদের জন্য।
তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে দুই ধরনের ঋণগ্রহীতা আছে; ভালো এবং অসাধু ঋণগ্রহীতা। ভালো ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধের জন্য আমরা বিশেষ সুবিধা দিচ্ছি।
নানা সমালোচনার মধ্যেও ঋণখেলাপিদের সুযোগ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা আসতে যাচ্ছে পুনর্গঠিত ঋণসহ যে কোনো ঋণ পুনঃতফসিল এবং খেলাপি ঋণ হিসাবায়নে। এছাড়া ডাউন পেমেন্টের বর্তমান হারও কমানো হবে।
বর্তমানে কোনো ঋণ তিন মাস মেয়াদোত্তীর্ণ হলে সাব-স্ট্যান্ডার্ড, ৬ মাস মেয়াদোত্তীর্ণ হলে সন্দেহজনক এবং ৯ মাস মেয়াদোত্তীর্ণ হলে মন্দ (খেলাপি) হিসেবে শ্রেণীকরণ করে। এসব ঋণ মান নির্ধারণে প্রতি পর্যায়ে সময় বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থাৎ তিন মাসের পরিবর্তে ৬ মাস মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ সাব-স্ট্যান্ডার্ড, ১২ মাস মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ সন্দেহজনক এবং দেড় বছর মেয়াদোত্তীর্ণ হলে তা মন্দমান (খেলাপি) হিসেবে শ্রেণীকরণ করবে। শ্রেণীকরণের এ প্রস্তাব করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি। এটি কার্যকর হলে খেলাপিরা বাড়তি সুবিধা পাবে। ব্যাংকগুলো নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখতে বাড়তি সময় পাবে।
অর্থমন্ত্রীর উদ্যোগ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংস্কারের মধ্যে শুভঙ্করের ফাঁকি দেখছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সরকার ব্যাংক খাতের প্রয়োজনীয় সংস্কার না করে বিভিন্ন ফাঁক ফোঁকর খুঁজছে। এসব সংস্কার করে কাগজে-কলমে ব্যাংক খাত ভালো করতে পারলেও বাস্তবে নেতিবাচক ছাড়া এর ইতিবাচক কোনো ফল আসবে না।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ব্যাংকিং খাত সংস্কারে সরকারের পক্ষ থেকে অনেক কথাবার্তা বলা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ দেখছি না।
base
তিনি বলেন, খেলাপিদের জন্য সরকার যে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, তা করলে ব্যাংকিং খাতে আরও বেশি সমস্যা সৃষ্টি হবে। মোট ঋণের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১২ বছরে বকেয়া টাকা পরিশোধের সুযোগ দেয়া হবে। তাদের ঋণের সুদ হবে ৯ শতাংশ। এটিই যদি হয় তাহলে যারা ঋণ খেলাপি নয়, নিয়মিত গ্রাহক তাদের ক্ষেত্রে অবিচার করা হবে। তারা ১০ থেকে ১২ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করছে। পরবর্তীতে এ ঋণ আর পরিশোধ করবে না। কারণ তারা বলবে, খেলাপি হলে কম সুদে ঋণ পাওয়া যাবে।
এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খারাপ ভালো ব্যাংক যুক্ত করার কথা বলা। কিন্তু কোন প্রক্রিয়ায় করা হবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। অর্থাৎ সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কারের বিষয়ে অনেক কথা বলা হচ্ছে। এটির ফল আসলে কী হবে তা এখন দেখার বিষয়।
বর্তমান ব্যাংক খাতে সুশৃঙ্খলা ফেরাতে কী করা উচিত, জানতে চাইলে প্রবীণ এ অর্থনীতিবিদ বলেন, ব্যাংক খাতের জরুরি কয়েকটি কাজ করতে হবে। এর মধ্যে প্রথমত সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। একই পরিবারের পরিচালকদের পর্ষদে দীর্ঘ মেয়াদি রেখে এটি নিশ্চিত করা সম্ভব না। দ্বিতীয়ত, ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ করতে হবে। এছাড়া আইনি যেসব দুর্বলতা আছে তা দূর করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে বলে তিনি জানান।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমাতে অবলোপনের (রাইট অফ) নীতিমালা পরিবর্তন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে মামলা ছাড়াই ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ অবলোপন করতে পারবে ব্যাংকগুলো। এতোদিন মামলা ছাড়া সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ঋণ অবলোপন করার সুযোগ ছিল। ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম নির্ধারণ করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, কিছু ব্যাংক কর্মকর্তার যোগসাজশ এবং প্রভাবশালী খেলাপির কারণে পুরো অর্থনীতি ঝুঁকিতে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নজরদারি বাড়িয়েছে। এতে আগামীতে খেলাপি কমে আসছে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
নানা সমা‌লোচনার পরও রাজ‌নৈ‌তিক বি‌বেচনায় আরও তিন‌টি ব্যাংক অনু‌মোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নতুন সরকার। এর ম‌ধ্যে কার্যক্রম শুরু কর‌তে দু’‌টি ব্যাংককে লাইসেন্সের জন্য প্রাথমিক সম্মতিপত্র (এলওআই বা লেটার অব ইনটেন্ট) দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক দু‌টি হ‌লো- বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং সিটিজেন ব্যাংক। এ ছাড়া এলওআই পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পিপলস ব্যাংক।
খেলাপি ঋণ
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের শেষে ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ১১ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বর ২০১৭ শেষে ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা বা ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৯ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ডিসেম্বের শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণ খেলাপির পরিমাণ ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে ছিল ৬২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা এবং ২০১৫ সালে খেলাপি ঋণ ছিল ৫১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা।
মূলধন ঘাটতি
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে বলছে, গত ডিসেম্বর শেষে ১০টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এসব ব্যাংকের ঘাটতি দেখা দিয়েছে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা। তিন মাস আগে ৯টি ব্যাংকের ঘাটতি ছিল ১৯ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। নতুন করে মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংক। মূলধন ঘাটতির তালিকায় বেশিরভাগই রয়েছে সরকারি ব্যাংক। অন্যদিকে, ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে আলোচিত জনতা ব্যাংকের ঘাটতি বেড়ে পাঁচ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা হয়েছে। মূলধন ঘাটতি রেখে কোনো ব্যাংক তার শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে পারে না।
রিজার্ভ চুরি
ব্যাংক খাতের আলোচিত একটি ঘটনা রিজার্ভ চুরি। ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ঘটে রিজার্ভ চুরির ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০১ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার (৮০০ কোটি টাকা) চুরি হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি, ‘হ্যাক’ করে এ অর্থ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পরে এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে পদত্যাগ করতে হয়। অব্যাহতি দেয়া হয় দুই ডেপুটি গভর্নরকে। ওএসডি করা হয় অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে সরকারের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। তিন বছর পর রিজার্ভ চুরির অর্থ ফিরিয়ে আনতে ও ক্ষতিপূরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে শেষ পর্যন্ত মামলা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ মামলা নিষ্পত্তিতে তিন বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।অর্থনীতি

Tuesday, April 16, 2019

পরীক্ষার বদলে শোনা-বলা-পড়া-লেখা

পরীক্ষার বদলে শোনা-বলা-পড়া-লেখা


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের শোনা, বলা, পড়া ও লেখা- এ চারটি বিষয়ের ওপর মূল্যায়ন করে পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করা হবে।
ধারাবাহিক মূল্যায়ন কার্যক্রম ২০২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে করা হবে বলে জানা গেছে। এটি চূড়ান্ত করতে আগামীকাল বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সভা ডাকা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা নেয়া হবে না। তবে কোন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হবে, তার একটি ধারণাপত্র তৈরি করা হয়েছে। এটি নিয়ে আগামীকাল সভা ডাকা হয়েছে।
সভায় ন্যাশনাল কারিকুলাম অ্যান্ড টেক্সটবুক বোর্ডের (এনসিটিবি) কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানানো হয়েছে। মূল্যায়ন পদ্ধতি বাস্তবায়নে সভায় একটি টেকনিক্যাল কমিটি করে দেয়া হবে। তারা সারা দেশের অংশীজনের মতামতের মাধ্যমে মূল্যায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করবেন বলে সচিব জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এটি চালু করা হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষের মূল্যায়ন নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে পরবর্তীতে করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক স্তরে অর্জন উপযোগী যোগ্যতা বা শিখনফলের ওপর ভিত্তি করে পাঠ্যবই রচনা করা হয়েছে। একইভাবে শিক্ষক নির্দেশিকা রচনা করা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের এসব যোগ্যতা ও শিখনফল অনুসারে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। যেভাবে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে তাতে শিক্ষার্থীরা এসব যোগ্যতা ও শিখন অর্জন করছে কি না- তা যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু ধারাবাহিক মূল্যায়নে সেটি সম্ভব হবে।
এ পদ্ধতি মূল্যায়নের মাধ্যমে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা যাবে। সেই সঙ্গে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করা সম্ভব হবে। ফিনল্যান্ডসহ উন্নত বিশ্বে এ ধরনের মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু আছে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান।
ধারাবাহিক মূল্যায়ন
শিখন-শেখানো কার্যক্রম পরিচালনার সময় প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের অর্জনের অগ্রগতি মূল্যায়নের কলাকৌশলই হলো ধারাবাহিক মূল্যায়ন। যে সকল শিক্ষার্থী শিখন-শেখানো কার্যক্রমে পিছিয়ে থাকে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের দুর্বলতা চিহ্নিত করা সম্ভব এবং তা দূরীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। যোগ্যতাভিত্তিক কারিকুলামে ধারাবাহিক মূল্যায়ন শিখনফল ও বিষয়বস্তুর আলোকে হবে। ধারাবাহিক মূল্যায়ন চারভাবে করা হয়। এগুলো হলো- মৌখিক, লিখিত, পর্যবেক্ষণের মাধ্যম ও কাজ করতে দিয়ে (এসাইনমেন্ট)।
ধারাবাহিক মূল্যায়নের বিষয়ে ধারণাপত্রে বলা হয়েছে, তিনভাবে ফলাফল সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো হলো- শিখনফল ভিত্তিক বা পাঠ শেষে, প্রান্তিক ভিত্তিক, মিশ্র (প্রথমে মাস ভিত্তিক রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে। পরে শিক্ষকরা মূল্যায়ন পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠলে শিখনফল ভিত্তিক রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে)।
ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রতিদিন শিক্ষার্থীর দক্ষতা যাচাই করতে হবে শিক্ষকদের। প্রতিনিয়ত ফলাবর্তন প্রদানের মাধ্যমে সকল শিক্ষার্থীকে একইমানে উন্নীত না করা পর্যন্ত এ মূল্যায়ন অব্যাহত রাখতে হবে। নম্বর প্রদানই মূল্যায়নের মূল উদ্দেশ্য নয়। সকল শিক্ষার্থীই প্রায় একই রকম নম্বর পাবে।
ধারাবাহিক মূল্যায়নের মূল উদ্দেশ্য হলো- শিশুর পাঠের দুর্বল দিক চিহ্নিত করে সঠিক শিক্ষা দেয়া। চারটি দক্ষতা অর্জনেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। পাঠের প্রকৃতি অনুযায়ী একই সঙ্গে শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীর ধারাবাহিক মূল্যায়ন সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলে শিক্ষক পর্যায়ক্রমে ধারাবাহিক মূল্যায়ন শেষ করবেন। প্রতি মাসে একবার করে অন্তত তিনবার ধারাবাহিক মূল্যায়ন রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতি তিন মাসের প্রাপ্ত নম্বরকে গড় করে সামষ্টিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে যোগ করে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করতে হবে।
বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন
প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ভাষা তথা বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে শোনা, বলা, পড়া ও লেখা- এ চারটি বিষয়ে মূল্যায়ন করা হবে। বিভিন্ন রকম ধ্বনি ও শব্দ শুনে আলাদা করতে পারা, মনোযোগ ও ধৈর্য ধরে শুনতে ও বুঝতে পারা। অর্থাৎ শোনার ক্ষেত্রে শিশুদের আদেশ বা নির্দেশ দিয়ে তা পালন করানো, গল্প বা গল্পের অংশ শুনিয়ে প্রশ্ন করে তার উত্তর বলতে ও লিখতে দিয়ে, নাটিকা ও নাট্যাংশ শুনিয়ে প্রশ্ন করে তার উত্তর বলতে ও লেখার মাধ্যমে, রেডিও, টিভি ও ক্যাসেট শুনিয়ে প্রশ্ন করে তার উত্তর বলতে ও লিখতে দিয়ে, কথোপকথন বা বক্তৃতা শুনিয়ে প্রশ্ন করে তার উত্তর বলতে ও লিখতে দিয়ে, কোনো কিছু শুনিয়ে তার ওপর কোনো কাজ করতে দিয়ে দক্ষতা মূল্যায়ন করতে হবে।
বলার ক্ষেত্রে শিশু শিক্ষার্থীদের স্পষ্টতা, শুদ্ধতা, প্রমিত উচ্চারণ, শ্রবণযোগ্যতা, সঠিক ছন্দে কথোপকথন, প্রশ্ন করা, অনুভূতি ব্যক্ত করা, বর্ণনা করা ও বাচনভঙ্গিও ওপর মূল্যায়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন করতে ও উত্তর বলতে দিয়ে, ছবি বা চিত্রের বিষয়বস্তু বলতে বা প্রশ্ন করে উত্তর বলা, গল্প শুনে বলতে দিয়ে, গল্পভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর বলা, ছবি বা চিত্র সাজিয়ে গল্প বলা, ছবি বা চিত্র দেখে সংলাপ বলা, অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা, নির্দেশ বা অনুরোধ করা, ছড়া বা কবিতা আবৃত্তি করতে দিয়ে, নিজের সম্পর্কে বলার মাধ্যমে, ধারাবাহিক গল্প বলা, উপস্থিত নির্ধারিত বক্তৃতা উপস্থাপন করা ও খবর পাঠ করতে দিয়ে।
লেখার বিষয়ে ধারাবাহিক মূলায়নের ক্ষেত্রে এনকোডিং (সঙ্কেত অক্ষরে লেখা), স্পষ্ট ও সঠিক আকৃতিতে লেখা, শব্দভাণ্ডার (শুদ্ধ বানান, সঠিক শব্দ) ও ব্যাকরণ। কোনো শব্দ বা বাক্য লিখতে দিয়ে তা অনুশীলন করানো। কতগুলো নির্দিষ্ট শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করতে দেয়া। সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে প্রশ্নোত্তর লিখতে দেয়া। এলোমেলো শব্দ বা বাক্য সাজিয়ে লিখতে দেয়া। সুন্দর লেখার অনুকরণে হাতের লেখা লিখতে দেয়ার মাধ্যমে মূল্যায়ন করতে হবে।
পড়ার ক্ষেত্রে কোনো বিষয়বস্তু পড়তে দিয়ে, পড়ার সময় উচ্চারণ, সাবলীলতা, গতি পরিমাপ করা, শুদ্ধতা, শ্রবণযোগ্যতা যাচাই, পড়ার বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর বলতে ও লিখতে দিয়ে, নির্দেশনামূলক পড়ার বিষয়বস্তু পড়ে তা সম্পাদন করতে দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে।

গণিত মূল্যায়ন
গণিত বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন কাঠামোতে মূল্যায়ন ক্ষেত্র, বিবেচ্য বিষয়, মূল্যায়ন পদ্ধতি (মৌখিক, লিখিত ও পর্যবেক্ষণ) ও মূল্যায়ন টুলস নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল্যায়ন ক্ষেত্র হিসেবে গাণিতিক ধারণা, প্রক্রিয়াগত ধারণা ও সমস্যা সমাধানের মূল্যায়ন করতে হবে।
বিবেচ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে সংখ্যার ধারণা, গাণিতিক সমস্যা সমাধানে কোনো ধরনের গাণিতিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করতে হবে তা বুঝতে পারা। যেমন : বেশি হওয়া-কম হওয়া, ছোট হওয়া-বড় হওয়া, দূরে-কাছে, অপরিবর্তিত থাকা, বস্তুর আলোকে পরিমাপের একক, জ্যামিতিক আকৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা দেয়া।
গাণিতিক সমস্যা সমাধানে কোন কোন গাণিতিক প্রক্রিয়া (যোগ, বিয়োগ, গুণ বা ভাগ) কেন ব্যবহার করতে হয় তা বুঝতে পারা। গাণিতিক সমস্যা সমাধানের ধাপ সম্পর্কে জানা। ভিন্ন ভিন্ন গাণিতিক প্রক্রিয়া ব্যবহারের কৌশল জানা। যেমন- হাতে রেখে ও না রেখে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ ইত্যাদি। গাণিতিক কৌশল সম্পর্কে যৌক্তিক ব্যাখ্যা বুঝতে পারা।
অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে গাণিতিক সমস্যার সমাধানের কৌশল (কোনটি, কীভাবে করতে হবে তা) সম্পর্কে সম্যক ধারণা। গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে পারা। বাস্তব জীবনের সঙ্গে গাণিতিক সমস্যাকে মিল করতে পারা মূল্যায়ন করা হবে।
মূল্যায়ন পদ্ধতির (মৌখিক, লিখিত ও পর্যবেক্ষণ) ক্ষেত্রে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে শিখন-শেখানোর কৌশল হিসেবে টুলস (প্রশ্নপত্র, চেকলিস্ট) তৈরি করবেন এবং পাঠ চলাকালীন ব্যবহার করবেন। ১ম শ্রেণির শিশুদের মৌখিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে- শিক্ষক বোর্ডে ১১ থেকে ২০ পর্যন্ত সংখ্যা এলোমেলোভাবে লিখবেন। ক্রম অনুযায়ী সাজাতে হলে কীভাবে তা করবে সে বিষয়ে শিক্ষাথীদের কাছে জানতে চাইবেন।
২য় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের লিখিত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে উদহারণ হিসেবে বলা হয়েছে- শিক্ষার্থীদের একটি কাগজ সমান চার ভাগ করে একভাগ রঙ করতে এবং রঙ করা অংশটি ভগ্নাংশে লিখতে বলবেন শিক্ষক। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষক বোর্ডে ছবি এঁকে ছবিতে কী কী আকৃতি আছে, তা শনাক্ত করে খাতায় লিখতে বলবেন।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় মূল্যায়ন পদ্ধতি
এ বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষক পাঠদান চলাকালীন বা পাঠ শেষে শিক্ষার্থীর বিষয়জ্ঞান, সামাজিক দক্ষতা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি মূল্যায়ন করবেন। শিক্ষার্থীর সমাজ ও পরিবেশ বিষয়ে জানা, অনুধাবন, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতার বিষয়ে মূল্যায়ন করবেন। অর্থাৎ শিক্ষার্থী কোনো তথ্য বা অভিজ্ঞতা স্মরণ করা, অনুধাবন করা, কোনো ধারণাকে নতুন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা এবং সৃজনশীল হবে।
শিক্ষক সংশ্লিষ্ট পাঠ বা পাঠগুলোর শিখনফল অর্জনের লক্ষ্যে বিষয়জ্ঞান যাচাই করবেন। আগে শেখানো কোনো তথ্য বা অভিজ্ঞতা স্মরণের মানসিক ক্ষমতা। কোনো বিষয়ের অর্থ সঠিকভাবে অনুধাবন করা বা বুঝতে পারা। পূর্বে শেখানো কোনো ধারণা, নীতি, পদ্ধতি বাস্তবে নতুন ক্ষেত্রে ব্যবহারের সক্ষমতা। কোনো কিছু সংগঠিত করা এবং সামগ্রিক রূপ দেয়া। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থী সৃজনশীল হবে। বিষয়ভিত্তিক পাঠদান শেষে শিক্ষকরা চেকলিস্ট ব্যবহার করে শিক্ষার্থীর বিষয়জ্ঞান যাচাই করবেন।
শিক্ষার্থীর সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক বিষয়ে দক্ষতা
সামাজিক দক্ষতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর আচরণিক পরিবর্তন হবে। অর্থাৎ তার চর্চার ক্ষেত্রসমূহ প্রসারিত হবে। শিক্ষার্থী তথ্য সংগঠন বিশ্লেষণ অনুসন্ধান ও গবেষণা করার দক্ষতা অর্জন করবে।
পরিবেশের উপাদানের গুরুত্ব, পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা ও পরিবেশের যত্ন ও রক্ষা করা, শিক্ষার্থীর অধিকার, বাস্তবে এর যথাযথ ব্যবহার এবং পরিবার ও রাষ্ট্রের প্রতি নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য, মিলেমিশে থাকা, অন্যকে সাহায্য করা, ভালো-মন্দের পার্থক্য, দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, দেশের সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণ করার বিষয়ে শিক্ষক শেখাবেন। এসব বিষয়ে শেখানোর সময় শিক্ষার্থীকে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মূল্যায়ন করবেন শিক্ষক।
প্রাথমিক বিজ্ঞান মূল্যায়ন পদ্ধতি
এ বিষয়ে জানা, অনুধাবন, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে। আগে শেখানো কোনো বিশেষ তথ্য বা অভিজ্ঞতা স্মরণ করার মানসিক ক্ষমতা। যেমন- সংজ্ঞা দেয়া, পুনরাবৃত্তি, লিপিবদ্ধ করা, তালিকা মৌখিক ও লিখতে পারার ওপর মূল্যায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক কাগজ-কলমে বা লেখা বা চিত্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখাবেন। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে- শিক্ষক বায়ুর চার উপাদানের নাম জানতে চাইবেন।
পাঠদান শেষে শিক্ষার্থীর অনুধাবন মূল্যায়ন করা হবে। অর্থাৎ কোনো বিষয়ের অর্থ সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারছে কিনা। যেমন- ব্যাখ্যা করা, শনাক্ত করা, চিহ্নিত করা, আলোচনা করা। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে- কীভাবে পানির অপচয় রোধ করা যায়।
শেখানো কোনো ধারণা, পদ্ধতি, নীতি, তত্ত্ব বা সূত্রকে বাস্তবে নতুন ক্ষেত্রে ব্যবহারের প্রয়োগ করার বিষয়ে শিক্ষার্থীর জ্ঞান মূল্যায়ন করা হবে। যেমন- ‘শিক্ষা প্রযুক্তি কীভাবে কাজে লাগাবে’ শিক্ষার্থীকে তা ব্যাখ্যা করতে বলবেন শিক্ষক।
উচ্চতর দক্ষতা বিষয়ে মূল্যায়ন অর্থাৎ কোনো সমগ্র অংশ পৃথক করা, পৃথককৃত অংশ একত্রিত করে সামগ্রিক রূপ দেয়া, কোনো কিছু সংগঠিত করা এবং কোনো কিছুর মূল্যমান বিচার করার বিষয়ে দক্ষতা মূল্যায়ন করা হবে। যেমন- পরিকল্পনা, পৃথক করা, গণনা করা, শ্রেণিবদ্ধ করা, পরিমাপ করা, গঠন, মূল্য নিরূপণ করা, নির্বাচন করা, বোঝাতে পারা, প্রকাশ করা ইত্যাদি।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষার্থীকে শেখানোর পরে শিক্ষক মূল্যায়ন করবেন। উদাহরণ স্বরূপ- যদি আমরা নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করি, তাহলে দাঁতের কী সমস্যা হতে পারে? শিক্ষক শিক্ষার্থীকে লিখিতভাবে মূল্যায়ন করবেন।

Monday, April 15, 2019

নুসরাত হত্যা : সেই শম্পা গ্রেফতার

নুসরাত হত্যা : সেই শম্পা গ্রেফতার

 নিজস্ব প্রতিবেদক 
 প্রকাশিত: ০৪:৫৬ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০১৯
নুসরাত জাহান রাফি
নুসরাত জাহান রাফি হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আলোচিত সেই শম্পা ওরফে চম্পাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফেনী।
সোমবার পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ৪ এপ্রিল সিরাজের সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে যান মাদরাসা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীম ও মাদরাসার সাবেক ছাত্র নূর উদ্দিনসহ চারজন। সেখানে সিরাজ তাদের ‘একটা কিছু করে’ নুসরাতকে শায়েস্তা করার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী শাহাদাত হোসেন শামীম নুসরাতকে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৬ এপ্রিল (শনিবার) সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় গেলে সেখানেই ভবনের ছাদে নিয়ে কেরোসিন ঢেলে তাকে আগুনে পোড়ানো হয়।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দুই ছাত্রীর মাধ্যমে তিনটি বোরকা আনা হয়। আনা হয় কেরোসিন তেল। ৬ এপ্রিল বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে বলে শম্পা ওরফে চম্পা নামে এক ছাত্রীর দেয়া সংবাদে ভবনের চারতলায় যান নুসরাত। সেখানে আগে থেকে লুকিয়ে ছিল শাহাদাতসহ চারজন। তারা নুসরাতকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। কিন্তু নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে ওড়না দিয়ে বেঁধে গায়ে আগুন দিয়ে তারা নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যায়।
নুসরাত হত্যায় মোট ১৩ জনের সংশ্লিষ্টতা মিলেছে। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত আট আসামির মধ্যে পরিকল্পনাকারী শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), নূর উদ্দিন (২০), মুকছুদ আলম কাউন্সিলর (২০), জোবায়ের আহম্মেদ, জাবেদ হোসেন (১৯) ও আফছার উদ্দিনকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়েছে।
একই ঘটনায় আগে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার সিরাজ উদ দৌলাকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামি হাফেজ আব্দুল কাদের পলাতক।
নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আব্দুল কাদেরসহ আরও একজন মিলিত হয়ে পরিকল্পনা করেন। তারা সিদ্ধান্ত নেন, নুসরাতকে পুড়িয়ে মারা হবে। নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনার কথা তারা দুই ছাত্রী ও দুই ছাত্রের সঙ্গে শেয়ার করে। এর মধ্যে একটি মেয়ের দায়িত্ব পড়ে ৩টি বোরকা আনা ও পলিথিনের ব্যাগে কেরোসিন আনা। ওই ছাত্রী কথা মতো সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে শাহাদাতের হাতে হস্তান্তর করে।
সকাল ৯টার পর ওদের ক্লাস পরীক্ষা শুরু হয়। এরই ফাঁকে ভবনের ছাদে চারজন অবস্থান নেয়। পরিকল্পনায় অংশ নেয়া শম্পা ওরফে চম্পা নামে ছাত্রী এক ছাত্রী নুসরাতকে জানায়, ভবনের চারতলায় যান নিশাতকে মারধর করা হচ্ছে। ওই খবরে নুসরাত ছাদে গেলে তাকে আটকে দেয়া হয়। প্রথমে ওড়না দিয়ে বেঁধে এরপর কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া হয়।
বাইরে নূর উদ্দিনের নেতৃত্বে হাফেজ আব্দুল কাদেরসহ পাঁচজন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গেট পাহারা ও স্বাভাবিক রাখার কাজ করে। আগুন দেয়ার পর সরাসরি অংশ নেয়ারা বোরকা পরে বের হয়ে যায়।
নুসরাতকে এর আগেও চুন মারার কারণে পাহাড়তলির হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিল। যে কারণে হত্যাকারীরা মনে করেছিল নুসরাতকে মারাটা কঠিন কোনো বিষয় নয়।
ঘটনার পরই পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর পিবিআইয়ের ছয়টি ইউনিট তদন্তে অংশ নেয়। ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। তদন্তে জড়িতের সংখ্যা বাড়তে পারে। পাঁচজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আরও একজনকে রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হবে। একজনের রিমান্ড শেষ হয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় জড়িতরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন আইনের আওতায় নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পিবিআই’র বিশেষ সুপার (ঢাকা মেট্রো) আবুল কালাম আজাদ, এসপি বশির আহমেদ, মিনা মাহমুদা, পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা ও জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল আহছান। ১০ এপ্রিল (বুধবার) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত।
বগুড়ায় ছুরিকাঘাতে বিএনপি নেতা খুন

বগুড়ায় ছুরিকাঘাতে বিএনপি নেতা খুন

 জেলা প্রতিনিধি  বগুড়া 
 প্রকাশিত: ০৩:১৯ এএম, ১৫ এপ্রিল ২০১৯

বগুড়ায় সন্ত্রাসীদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুল আলম শাহীন (৪০) খুন হয়েছেন। রোববার (১৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে নিশিন্দারা উপশহর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহীন বগুড়া সদরের ধরমপুর এলাকার আনিসুর রহমান দুলা মিয়ার ছেলে। রাজনীতির পাশাপাশি আইন পেশা ও পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন প্রতি রাতে নিশিন্দারা উপশহর বাজারে আড্ডা দিতেন। রোববার রাত ১০টার আগে তিনি তার প্রাইভেটকার নিয়ে উপ-শহর বাজারে আসেন। গোলাম মোস্তফা আবু তাহের নামে এক ব্যবসায়ীর বিসমিল্লাহ চাউল আড়ৎ থেকে চাল কেনেন। চালগুলো প্রাইভেটকারে রেখে তিনি মোবাইল ফোনে ফ্লাক্সিলোড দেন। পরে রাত ১১টার দিকে দুর্বৃত্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত ও দায়ের কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি দৌঁড়ে কিছুদূর যাবার পর রাস্তার পাশে পড়ে যান। এসময় দুজন পথচারী রক্তাক্ত অবস্থায় শাহীনকে উদ্ধার করে প্রথমে নামাজগড় এলাকায় স্বদেশ ক্লিনিকে নেন। সেখান থেকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ছিলিমপুর পুলিশ ফাঁড়‌ির এসআই আব্দুল আজিজ মন্ডল জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলাম জানান, নিহতের লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছ‌ে।

Sunday, April 14, 2019

উপজেলা প্রশাসন, আক্কেলপুর, জয়পুরহাট মঙ্গল শোভাযাত্রা

উপজেলা প্রশাসন, আক্কেলপুর, জয়পুরহাট মঙ্গল শোভাযাত্রা

Image may contain: 6 people, including Uno Akkelpur, crowd and outdoor

মঙ্গল শোভাযাত্রা। আয়োজনে উপজেলা প্রশাসন, আক্কেলপুর, জয়পুরহাট। ০১ বৈশাখ ১৪২৬।

Image may contain: 9 people, people smiling, people standing and outdoor

Image may contain: 2 people, people standing, people walking, wedding and outdoor
মঙ্গল শোভাযাত্রা। আয়োজনে উপজেলা প্রশাসন, আক্কেলপুর, জয়পুরহাট। ০১ বৈশাখ ১৪২৬।
সূত্র:faccebook/



নববর্ষে বানী জানিয়েছেন Abm Emrul Hasan

নববর্ষে বানী জানিয়েছেন Abm Emrul Hasan


নববর্ষে প্রতিজ্ঞা নেই স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সচেতন হবো এবং অন্য কে সচেতন করবো।
চলো বদলে যাই!
চলো বদলে দেই!!
জয় হোক মানবতার! 
জয় হোক বাংলাদেশের!!Image may contain: 2 people, including Abm Emrul Hasan, text


সূত্র:facebook এবিএম ইমরুল হাসান সৈকত
মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু

মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক 
 প্রকাশিত: ০৯:১২ এএম, ১৪ এপ্রিল ২০১৯





১৪২৬ সনের বাংলা নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়েছে। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার স্লোগান ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে।’ রোববার সকাল ৯টায় শোভাযাত্রাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে শুরু হয়। এরপর শোভাযাত্রাটি হোটেলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল (আগের রূপসী বাংলা), শাহবাগ ও টিএসটি মোড় ঘুরে ফের চারুকলার সামনে গিয়ে শেষ হবে।
শোভাযাত্রায় আবহমান বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রতীকী উপস্থাপনের নানা বিষয় স্থান পেয়েছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রাণের উৎসব বর্ষবরণ। বাংলা বর্ষবরণে বাঙালির নানা আয়োজনের মধ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রা অন্যতম।
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা ৩০ বছর পূর্তি হল এ বছর। এবার শোভাযাত্রার স্লোগানটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নৈবেদ্য’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া।
শোভাযাত্রার উদ্বেধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো রয়েছে পুরো এলাকা।
শোভাযাত্রায় নিয়ে নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকলেও তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের কাছে হার মানে সবকিছুই। ঢাক-ঢোলের বাদ্যি আর তালে তালে তরুণ-তরুণীদের নৃত্য, হৈ-হুল্লোড় আর আনন্দ উল্লাস মাতিয়ে রেখেছেন পুরো শোভাযাত্রা।
২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে হওয়া এ শোভাযাত্রা।
সকাল থেকেই টিএসসি, দোয়েল চত্বর, শাহবাগ ও এর আশপাশের এলাকায় মানুষ জড়ো হতে থাকে। নয়টার মধ্যেই পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। লাল-সাদা পোশাকে উচ্ছল নারীদের মাথায় শোভিত নানান রঙ্গের ফুলের টায়রা। তরুণদের পরনে ছিল লাল-সাদা পাঞ্জাবী।
শোভাযাত্রা ঘিরে ছিল কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। পুলিশ, র্যা বের সঙ্গে ছিল সোয়াত সদস্যরা। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও তৎপর ছিলেন।
এবারের শোভাযাত্রার শিল্প-কাঠামোগুলোর একটিতে বাঘের মুখ থেকে কাঁটা তোলার চিরায়ত গল্পটি উপস্থাপিত হবে বাঘ ও বকের অনুষঙ্গে। মঙ্গলের বারতা পেঁচা। সমৃদ্ধির কথা বলছে ছাগলের কাঠামো। এছাড়া রয়েছে দুই মাথা ঘোড়া, দুই পাখি, কাঠঠোকরা, রাজা-রানির মুখোশ।
শোভাযাত্রার পুরো পথে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েরছ। পথিমধ্যে কেউ মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারছে না। কারণ চতুর্দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে মানবশিল্ড গঠন করা হয়েরছ। গতবারের মতো এবারও মুখোশ ব্যবহার নিষিদ্ধ। প্রতিবারের মতো ভুভুজেলা নিষিদ্ধ। নিরাপত্তার জন্য রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের এলাকায় কেন্দ্রীয় রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়েছে শোভাযাত্রার জন্য।
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। মিলেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হয়েছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা। শুরু থেকেই চারুকলার শোভাযাত্রাটির নাম মঙ্গল শোভাযাত্রা ছিল না। তখন এর নাম ছিল বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা। ১৯৯৬ সালে এর নাম হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা।
বর্ষবরণ উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা চারুকলায় ১৯৮৯ সালে শুরু হলেও এর ইতিহাস আরও কয়েক বছরের পুরনো। ১৯৮৫ বা ১৯৮৬ সালে চারুপীঠ নামের একটি প্রতিষ্ঠান যশোরে প্রথমবারের মতো নববর্ষ উপলক্ষে আনন্দ শোভযাত্রার আয়োজন করে। যশোরের সেই শোভাযাত্রায় ছিল পাপেট, বাঘের প্রতিকৃতি, পুরানো বাদ্যসহ আরও অনেক শিল্পকর্ম। শুরুর বছরেই যশোরে সেই শোভাযাত্রা আলোড়ন তৈরি করে।
যশোরের সেই শোভাযাত্রার উদ্যোক্তাদের একজন মাহবুব জামাল শামীম মাস্টার্স ডিগ্রি নিতে পরে ঢাকার চারুকলায় চলে আসেন। পরবর্তীতে যশোরের সেই শোভাযাত্রার আদলেই ঢাকার চারুকলা থেকে শুরু হয় বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা।
রমনা বটমূল ঢাবি ক্যাম্পাসে জনস্রোত

রমনা বটমূল ঢাবি ক্যাম্পাসে জনস্রোত

রাজধানীর ঐতিহাসিক রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ শুরু হয়েছে। বর্ষকে বরণ করে নিতে রমনা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হাজারো নারী-পুরুষ ও শিশুর ঢল নেমেছে।
Romna

শনিবার রাতে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের কারণে নববর্ষের প্রথম দিনটি শুরু হয় কি-না তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু আজ রোববারের সকালের আবহাওয়া গতকালের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল।
Romna

কাকডাকা ভোর হতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ নববর্ষের পোশাক পরিধান করে রমনা উদ্যান অভিমুখে ছুটে আসেন। সময় যত গড়াতে থাকে মানুষের ভিড় তত বাড়তে থাকে।
Romna

নগরবাসীকে নববর্ষের অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালনের সুযোগ করে দিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো।
রাজধানীর নীলক্ষেত, পলাশী, বকশিবাজার, কাটাবন মোড়সহ বিভিন্ন প্রবেশপথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কাউকে যানবাহন নিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
Romna
ভোর ৬টায় রমনা বটমূলে রাজধানীর কলাবাগানের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম দম্পতির সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, সাধারণত বছরের অন্য দিনগুলোতে বেলা করে ঘুম থেকে উঠলেও নববর্ষের দিনটিতে তারা ফজর নামাজের পরপরই রমনা বটমূলে দিকে ছুটে আসেন। নতুন বর্ষ বর্ষবরণ অনুষ্ঠান দেখে মিঠাই মন্ডা কিনে বাসায় ফিরবেন।
Romna
আনুমানিক সত্তর বছরের বৃদ্ধ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা নিয়ামুল হাসান জানান, প্রতি বছর নাতি-নাতনি সঙ্গে নিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান দেখতে আসেন।