সংবাদ শিরোনাম
লোডিং...
Menu

Sunday, April 14, 2019

৮৩ দিনে দানবাক্সে পড়েছে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা

৮৩ দিনে দানবাক্সে পড়েছে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা

 জেলা প্রতিনিধি  কিশোরগঞ্জ 


কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে এবার ১ কোটি ৮ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা পাওয়া গেছে। শনিবার গণনা শেষে এ টাকার হিসাব পাওয়া যায়। এবার মাত্র ৮৩ দিনে কোটি টাকার ওপর পড়েছে দানবাক্সে। একই সঙ্গে পাওয়া গেছে স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রা।
শনিবার সকালে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে সরকারি কর্মকর্তা, মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও ব্যাংকের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পাগলা মসজিদের ছয়টি লোহার দানবাক্স খোলা হয়।
kishorgonj-(4)
রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিবারই আমাদের ব্যাংকের লোকজন টাকা গণনা করে ব্যাংকে জমা করেন। এবার ৮৩ দিন পর দানবাক্স খোলা হয়েছে। মোট টাকা পাওয়া গেছে ১ কোটি ৮ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা।
এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি মসজিদের পাঁচটি লোহার দানবাক্স থেকে ১ কোটি ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭৩ টাকা পাওয়া যায়। গত বছর শুধুমাত্র দানবাক্সে পাওয়া টাকার পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৩৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৭ টাকা।
পাগলা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্সের খরচ চালিয়ে অবশিষ্ট টাকা জমা রাখা হয় শহরের একটি ব্যাংকে। আয় থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেয়া হয়।
শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের অবস্থান। এখানে ইবাদত বন্দেগি করলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। রোগ-শোক বা বিপদে মসজিদে মানত করলে মনের বাসনা পূর্ণ হয়। এমন বিশ্বাস থেকে এখানে প্রতিনিয়ত দান খয়রাত করে মানুষ। তিন মাস পর পর খোলা হয় মসজিদের দানবাক্স। প্রতিবারই টাকার পরিমাণ ছাড়িয়ে যায় কোটি টাকা। নানা শ্রেণিপেশা আর ধর্মের লোকজন এখানে আসেন মানত আদায় করতে।
দানবাক্স ছাড়াও প্রতিদিন নানা শ্রেণিপেশা আর ধর্মের মানুষ মানত আদায় করতে ছুটে আসেন পাগলা মসজিদে। নগদ টাকা ছাড়াও তারা নিয়ে আসেন চাল-ডাল-গবাদি পশুসহ বিভিন্ন সামগ্রী। দিন শেষে এসব পণ্য নিলামে বিক্রি করে জমা করা হয় ব্যাংকে।
kishorgonj-(3)
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, তিন মাস পরপর মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এবার দুই মাস ২৪ দিনপর খোলা হলো। এবার নগদ ১ কোটি ৮ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, মসজিদের দানবাক্স খোলা হলেই সাধারণত ১ কোটি টাকার মতো পাওয়া যায়। এবারও ১ কোটি টাকার উপরে পাওয়া গেছে। টাকাগুলো রূপালী ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে। যে স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে তা আগের স্বর্ণালঙ্কারের সঙ্গে যোগ করে সিন্দুকে রেখে দেয়া হয়েছে।
একইভাবে গত বছরের ১৩ জুলাই ৮০ লাখ ৪৯ হাজার ৮১ টাকা, ৩১ মার্চ ৮৪ লাখ ৯২ হাজার ৪ এবং ৬ জানুয়ারি দানবাক্সগুলো থেকে ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪৭১ টাকা পাওয়া যায়।
গত বছর শুধুমাত্র দানবাক্স থেকে নগদ ৫ কোটি ৩৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৭ টাকা পাওয়া যায়। এর আগে ২০১৭ সালে দুবারে টাকা পাওয়া যায় ২ কোটি ২২ লাখ ৩০ হাজার ২ টাকা।
kishorgonj
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক পদাধিকার বলে পাগলা মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মসজিদের আয় থেকে জেলার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদানসহ বিভিন্ন সেবামূলক খাতে সাহায্য দেয়া হয়। বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষকে চিকিৎসার জন্য মসজিদের তহবিল থেকে অর্থ সহায়তা দেয়া হয়।
পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, মসজিদের টাকা স্থানীয় একটি ব্যাংকে জমা রাখা হয়। মসজিদ কমপ্লেক্সের আয় থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেয়া হয়। অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য মসজিদের ফান্ড থেকে অনুদান দেয়া হয়।
  •  
  • কিশোরগঞ্জ

আপনার মতামত লিখুন :





শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: